বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
রাজা
৩৯

পক্ষে অত্যন্ত দুরূহ। রূপলালসা তখনও তাহার মন হইতে সরে নাই; সুবর্ণ তখনও তাহার কাঙ্ক্ষিত, যদিচ তাহার ভীরুতার জন্য তাহার প্রতি সুদর্শনার ধিক্কার জন্মিয়াছে। পাপের বিদ্রোহের ভিতর একটা সাহস আছে, একটা উত্তেজনা আছে; সে উত্তেজনা প্রলয় ঘটাইবার উত্তেজনা। সেই উত্তেজনার ভিতর তীব্র আনন্দ। শেক্‍স্‍পীয়রের ‘অ্যাণ্টনি অ্যাণ্ড‍‍্ ক্লিয়োপেট্রা’র মধ্যে সেই প্রলয়ের তীব্র উত্তেজনার আনন্দের রূপ দেখিতে পাওয়া যায়। সুদর্শনার বিদ্রোহের মধ্যে সেই সাহস, সেই উন্মাদনা প্রচুর ও প্রবল রূপে জাগিয়াছে, কিন্তু যাহার জন্য সে সমস্ত ছাড়িল সে কোথায়? সে এমন ভীরু? সুদর্শনাকে জোর করিয়া কাড়িয়া লইবার সাহস তাহার নাই?

 ইতিমধ্যে কাঞ্চীরাজ সুবর্ণকে বাহন করিয়া সুদর্শনাকে ল‍ইবার জন্য তাহার পিতার রাজ্যে উপস্থিত। দেখিতে দেখিতে কাঞ্চী ছাড়া আরও কয়েকজন রাজা আনিল। সেই সাত রাজার সঙ্গে তখন সুদর্শনার পিতার যুদ্ধ বাধিল এবং তিনি বন্দী হইলেন। সুদর্শনার জন্য স্বয়ম্বরসভা প্রস্তুত হইল। সেই সভায় কাঞ্চীরাজ সুবর্ণকে ছত্রধর করিয়া সিদ্ধিলাভের আশা করিল। রাজসভায় সুবর্ণকে দূর হইতে সেই অবস্থায় দেখিয়া তাহার প্রতি সুদর্শনার অত্যন্ত ঘৃণা জন্মিল। তখন তাহার ধ্রুব বিশ্বাস হইল, সুবর্ণ কিছুমাত্র সুন্দর নয়। সে স্থির করিল যে, এই সাত রিপুর সাত রাজার টানাটানির আয়োজনের মাঝখানে সেই স্বয়ম্বরসভায় বুকে ছুরি বসাইয়া সে আত্মঘাতিনী হইবে।

 এইখানেই তাহার পাপের প্রায়শ্চিত্তের আরম্ভ। তাহার অর্ঘ্য যে সৌন্দর্যের অন্তরতর রিক্ত নির্মল ‘সবরূপ—ডোবানো রূপ’ এর কাছে না পৌঁছিয়া কেবলমাত্র ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সৌন্দর্যের ভোগলালসাপ্রদীপ্ত স্থূল রূপের মলিনতার মধ্যে গিয়া পৌঁছিয়াছে এবং ধুলায় লুটাইয়াছে, যে মুহূর্তে সে ইহা অনুভব করিতে পারিল সেই মুহূর্ত হইতেই তো তাহার প্রায়শ্চিত্তের