শুরু, এবং মুক্তিরও সূত্রপাত। সৌন্দর্যবৃত্তির চরিতার্থতা—সাধন তো পাপ নয়; পাপ, যখন লালসা সৌন্দর্যবৃত্তির স্থান জুড়িয়া বসে। সে লালসা নিতান্ত ইন্দ্রিয়ের জিনিস—হৃদয়কে তাহা নষ্ট করিতে পারে না।
তার পর স্বয়ম্বরসভায় হঠাৎ রাজাদের আসন কাঁপিয়া উঠিল এবং যোদ্ধবেশে ঠাকুরদাদা প্রবেশ করিলেন। ইতিপূর্বে কাঞ্চীরাজ প্রভৃতি বসন্ত—উৎসবে ঠাকুরদাদাকে কতকগুলি দলবল লইয়া নাচিতে গায়িতে দেখিয়াছে। এখন ঠাকুরদা যখন বলিলেন, রাজা আসিয়াছেন এবং তাঁহার সেনাপতি তিনিই, তখন কাঞ্চীরাজ সে কথায় ভুলিল না। আরসকল রাজাই ভয়ে তখনি হার মানিল। কেবল কাঞ্চীরাজ শেষ পর্যন্ত লড়িবার জন্য প্রস্তুত হইল। সে বিদ্রোহী, সে পুরাপুরি অবিশ্বাসী।
সুদর্শনার অভিমান তখনও যায় নাই। কেবল মনটা ভিতরে গলিয়াছে, পাপের মলা বেদনার অশ্রুজলে ধুইয়াছে। তাহার বিশ্বাস রাজা তাহাকে নিশ্চয় ডাকিয়া লইবেন। সে ঠাকুরদার মুখে শুনিল, রাজা যুদ্ধ শেষ করিয়া চলিয়া গিয়াছেন। তাহাকে তিনি উদ্ধার করিলেন, কিন্তু ডাকিয়া লইলেন না।
তার পর শেষ দৃশ্যে পরাজিত কাঞ্চীরাজ, ঠাকুরদাদা, রানী, সুরঙ্গমা সকলেই পথে বাহির হইল। সে পথ যাত্রীর পথ, মুক্তির পথ, বিশ্বের পথ। সকল অভিমান ভাসাইয়া দিয়া সেই পথে রানী বাহির হইতেই রাজাকে যেন সেই পথেই পাইল। তখন তাহার দীনবেশ, তাহার রথ নাই, তাহার কোনো সমারোহ নাই। শেষে রাজার সঙ্গে দেখা মিলিতে রানী বলিল, ‘আমি তোমার চরণের দাসী, আমাকে সেবার অধিকার দাও।’ তাহার আত্মদান এতদিনে সম্পূর্ণ হইল।
রাজা জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘আমাকে সইতে পারবে?’
রানী বলিল, ‘পারব।... প্রমোদবনে আমার রানীর ঘরে তোমাকে দেখতে চেয়েছিলুম বলেই তোমাকে এমন বিরূপ দেখেছিলুম— সেখানে