বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪২
কাব্যপরিক্রমা

এবং নিখিল জগতের মধ্যে সেবার অধিকার—লাভ। সৌন্দর্য হইতে ধর্মনীতিতে এবং ধর্মনীতি হইতে আধ্যাত্মিকতায় এই—যে উত্তরণ, ইহা এমন ধাপে ধাপে না ঘটিলে আত্মার পক্ষে অন্ধকার হইতে আলোকে আসা কোনোমতেই সম্ভাবনীয় ছিল না। সুদর্শনার ইতিহাস আত্মার এই অন্তরঙ্গ জীবনের ইতিহাস এবং এই অভিনব soul dramaর প্রধান নাট্যবস্তু।

 কিন্তু এই ইতিহাস অসম্পূর্ণ থাকে, যদি রাজার স্বরূপটি কী তাহা না দেখি। সে রাজা কি বেদান্তের অনন্ত অনধিগম্য নিরুপাধি ব্রহ্ম না বৈষ্ণবের সচ্চিদানন্দঘনস্বরূপ ভগবান? এ নাট্যে রাজার স্বরূপ কী তাহা না জানিলে রানীর এই আত্মার ইতিহাসের কোনো মূল্যই থাকে না।

 একমাত্র লোক যিনি রাজাকে চেনেন তিনি ঠাকুরদাদা। সুতরাং তাঁহার উপলব্ধির মধ্যে রাজার স্বরূপের কোনো কোনো লক্ষণ ধরা পড়িতে বাধ্য।

 একেবারে প্রথম দৃশ্যে যখন রাজার এই নূতন রাজ্যে পথিকের দল উপস্থিত তখন তাহারা প্রহরীকে উৎসবে যাইবার পথ জিজ্ঞাসা করিতেছে। প্রহরী উত্তর করে, ‘এখানে সব রাস্তাই রাস্তা। যে দিক দিয়ে যাবে ঠিক পৌঁছবে।’ এ খোলা রাস্তার দেশ, এ ‘Open Road’, এখানে কোনো মানা বা নিষেধ নাই। রাজাকে কেউ দেখে না, তাই কেউ ভয়ও করে না। রাজা কেন দেখা দেন না তার উত্তরে ঠাকুরদাদা বলিতেছেন, ‘সে যে আমাদের সবাইকেই রাজা করে দিয়েছে।’—

আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে,
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে।
আমরা যা খুশি তাই করি,
তবু তাঁর খুশিতেই চরি,
আমরা নই বাঁধা নই দাসের রাজার ত্রাসের রাজত্বে—
নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে!