রাজা সবাইকে বিধিনিষেধহীন খোলা রাস্তায় বাহির করিয়া রাজা করিয়া দিয়াছেন, এ তো স্পষ্টই এখনকার ডেমোক্র্যাটিক ঈশ্বরের কথা। ডেমোক্র্যাটিক বা গণেশ—ভগবানের ধারণা আমাদের দেশে যে নাই তাহা নয়। তাঁহাকে নরনারায়ণরূপে দেখিবার সাধনা, জীবে জীবে তিনি শিবরূপে অধিষ্ঠান করিতেছেন এ ভাবে দেখিবার সাধনা, তাঁহাকে বিশ্বরূপ করিয়া দেখিবার সাধনা, আমাদের দেশের কোনো কোনো সাধকশ্রেণীর মধ্যে ছিল এবং এখনও আছে। যে যে—পথে যায় সে যে তাঁহারই পথে চলিয়াছে, সকলেরই পথ যে তাঁহার পথ— এ কথাও আমাদের দেশের ধর্মসাধনার মুখ্য কথা। তবু মনে হয় যে, ডেমোক্র্যাসি জিনিসটা পশ্চিমের জিনিস বলিয়া ডেমোক্র্যাটিক ভগবানের ধারণা পশ্চিমে যেমন করিয়া জাগিয়াছে এমন করিয়া আমাদের দেশে কখনও জাগিয়াছিল কি না সন্দেহ। সাবেক কালে যখন ব্যক্তিদের তাল পাকাইয়া এক—একটা class বা জাতি তৈরি করা হইত, তখন প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাতন্ত্র্যের কোনো কথাই ছিল না। তখন এ তত্ত্ব কেহ বুঝে নাই যে, মানবসমাজের চালক মানবসমাজ নিজেই—কোনো রাজাও নয়, কোনো জাতিতন্ত্রও নয়। সমাজের সকল সামাজিকের পরস্পরের সীমাসংখ্যাহীন অদৃশ্য ঘাতপ্রতিঘাতে সমাজ জিনিসটা ক্রমশ একটা অখণ্ড বস্তু হইয়া গড়িয়া উঠিতেছে। এই সমাজ আত্মক্রীড়, আত্মরতি, আত্মক্রিয়াবান্, আত্মঅগ্রসরশীল। অথচ এই সমাজ কেবল মানুষেরই নয়, ইহা অসংখ্য জীবের আছে। এই নিখিল বিশ্বসমাজের (cosmic society) পরিপূর্ণ স্বরূপ ভগবানের স্বরূপ। সেই নিখিল বিশ্বসমাজের অভিব্যক্তি যেমন শেষ হয় নাই তেমনি সেই সমাজের চিদ্রূপী যে ভগবান তাঁহারও শেষ হইতে পারে না। তিনি সেই ক্রমবিকাশশীল নিখিল বিশ্বসমাজের সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতেছেন, নিখিল বিশ্বসমাজের সঙ্গে সঙ্গে নানা ভোগ ভুগিতেছেন, এবং নিখিল বিশ্বসমাজের সমস্ত বাধাকে জয় করিয়া ক্রমাগতই চলিতেছেন। ইহা
পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৪৪
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
রাজা
৪৩