এ কালের ডেমোক্র্যাটিক বা গণেশ—ভগবানের ধারণা। আমাদের দেশে যুগধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য ভগবান যে যুগে যুগে ক্রমাগতই অবতীর্ণ হইতেছেন, এই ভাবের সঙ্গে পশ্চিমের এই অভিনব ডেমোক্র্যাটিক ভগবানের ভাবের বেশ মিল আছে। দুইই এক বস্তু। ‘Democracy: a New Unfolding of Human Power’ গ্রন্থে অধ্যাপক য়ুড্স্ বলিতেছেন—
This new spirit, forming itself, as it were, upon the restless sea of humanity, will, without doubt, determine the future sense of God and destiny... Society, as a federal union, in which each individual and every form of human association shall find free and full scope for a more abundant life, will be the large figure from which is projected the conception of God in whom we live and move and have our being.
রবীন্দ্রনাথের রাজা এক দিকে সকলকে রাজা করিয়া দিয়া সমস্ত মানুষকে বিধিনিষেধহীন খোলা রাস্তার দেশে বাহির করিয়া দিয়াছেন, তিনি এই ডেমোক্র্যাটিক ভগবান। অন্য দিকে তিনি রানীর বা আত্মার একমাত্র স্বামী, একমাত্র প্রণয়ী। আত্মা তাঁহার ‘দ্বিতীয়’, আত্মা তাঁহার ‘উপমা’, আত্মা তাঁহারই ‘সুদর্শনা’ রূপ। তাই ঠাকুরদা ও তাঁহার দলের ভিতর দিয়া এই রাজার স্বরূপের এক পরিচয়, সুদর্শনা রানীর ভিতর দিয়া এই রাজার স্বরূপের অন্য পরিচয়। এই দুই পরিচয়ই সমান সত্য ও মূল্যবান। তিনি বিশ্বরূপ অথচ তিনি বিশেষরূপ। তিনি সমস্ত অথচ তিনি একক। রবীন্দ্রনাথের রাজার মধ্যে এই দুই স্বরূপের মিলন যেন বাস্তবিক পক্ষে পূর্বে এবং পশ্চিমে রাজার দুই ভিন্ন রকমের স্বরূপবোধের মিলন।
এইজন্য এই নাট্যে ঠাকুরদার প্রয়োজন আছে রানীকে; রানীর প্রয়োজন আছে ঠাকুরদাকে। ঠাকুরদা যতদিন রানীর ভিতর দিয়া রাজাকে দেখেন নাই ততদিন রাজাকে পুরা করিয়া, সমগ্র করিয়া দেখিতে