হবে—সে আমি সইতে পারব না।’ সুরঙ্গমা বলিল, ‘মা, তোমার সমস্ত ভালোমন্দ আমি নিজের গায়ে মেখে নিয়েছি।’—
আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী,
আমি সকল দাগে হব দাগী।
সুরঙ্গমা এইখানেই তাহার ভক্তিসাধনার চরম অবস্থায় গিয়া পৌঁছিল। এতদিন সে অন্ধকার ঘরের দাসী ছিল, সে আপনার ভিতরকার সাধনার নিষ্ঠার মধ্যেই স্থির হইয়া থাকিতে চাহিয়াছিল। এখন সে সংসারে আসিয়া সকলের কলঙ্কভাগী, সকলের পাপের দাহের অংশ গ্রহণ করিবার জন্য প্রস্তুত হইল। কারণ, তাহা না হইলে পাপ তো যায় না। পাপ যায় পাপের ভার গ্রহণ করিলে, অর্থাৎ পাপ যায় প্রেমে—কারণ, প্রেমেই ভার লয়, ভার বয়। তাই সুরঙ্গমা গাহিতেছে—
আমি শুচি—আসন টেনে টেনে
বেড়াব না বিধান মেনে,
যে পঙ্কে ঐ চরণ পড়ে
তাহারই ছাপ বক্ষে মাগি।
মানুষের পাপ সম্বন্ধে ঈশ্বরেরও তো ঠিক এই ভাব। নহিলে তাঁহারও প্রেমের মূল্য কী? সুরঙ্গমার এই প্রেম, এই অচল নিষ্ঠাই সুদর্শনাকে ভিতরে ভিতরে গলাইয়াছে। অবশ্য, সুদর্শনার পরিবর্তন তাহার মতো এমন সহজে ঘটিবারই নয়। কারণ, তাহার অভিমানের আয়োজন অত্যন্ত বিচিত্র, তাহার পক্ষে অভিমান ত্যাগ বড়ো কঠিন, তাই তাহার আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ঘটানোও কঠিন; সে যে অন্ধকারকেই চায় না, অর্থাৎ সে সাধকদের মতো অপরূপকে শুধু অন্তরের ধ্যানলোকের মধ্যে দেখিতে চায় না। সুরঙ্গমা বলে, ‘আমার মনে হয়, যেন আমার বুকের ভিতরে পায়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছি।... আমার বোঝবার জন্যে কিছুই দেখবার দরকার হয় না।’ সুদর্শনা ঠিক তার উল্টা কথা বলে, ‘যেখানে আমি গাছপালা