পশুপাখি মাটিপাথর সমস্ত দেখছি সেইখানেই তোমাকে দেখব।’
সুদর্শনার মতো বিদ্রোহী কাঞ্চীর রাজা; যদিচ তাঁহার টাইপ স্বতন্ত্র। রাজাদের মধ্যে তাঁহারও পরিবর্তন ঘটানো তুল্য কঠিন। কারণ, আর সবাই মূঢ় সংস্কারের বশবর্তী—তাহারা রাজার অস্তিত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ করিলেও যেমনি শোনে যে রাজা আসিয়াছেন অমনি মাথা নিচু করে। কিন্তু কাঞ্চী শেষ পর্যন্ত অটল। এই বিদ্রোহ, আত্মশক্তির উপর ষোলোআনা নির্ভরের জন্য বিদ্রোহ। সুতরাং এ বিদ্রোহ প্রচণ্ড আঘাতে ভাঙে। শেষ দৃশ্যে যখন সকলেই ‘Pilgrim’s Progress’এর মতো রাজার দর্শনলাভের জন্য পথে চলিয়াছে তখন কাঞ্চী বলিতেছে, ‘যখন কিছুতেই তাকে রাজা বলে মানতেই চাই নি তখন কোথা থেকে কালবৈশাখীর মতো এসে এক মুহূর্তে আমার ধ্বজা পতাকা ভেঙে উড়িয়ে ছারখার করে দিলে, আর আজ তার কাছে হার মানবার জন্যে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি―তার আর দেখাই নেই।’
কাঞ্চীরাজার বিদ্রোহ সুদর্শনার চেয়ে ঢের জোরালো। সে রাজার রানীকেই জোর করিয়া পাইবার জন্য চেষ্টা করিয়াছে এবং সেজন্য কত কলকৌশলের অবতারণা করিয়াছে। সে ঈশ্বরকে চায় নাই, ঐশ্বর্যকে চাহিয়াছে। সে ঐশ্বর্যের প্রভু হইয়া ঈশ্বরের জায়গায় নিজেকে বসাইতে চাহিয়াছে। এ বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত লড়ে, তার পরে মরে।
এইবার ঠাকুরদার কথা এবং তাঁর দলের কথা বলিয়া এ নাটকের কথা শেষ করিব। গ্রীক নাটকে কোরামের যে কাজ ছিল, ঠাকুরদা ও তাঁহার দলের ঠিক সেই কাজ এ নাটকে দেখিতে পাই। এ নাটকে লিরিক-অংশের সন্নিবেশ ঐখানে।
রবীন্দ্রনাথ অসাধারণ লিরিক কবি বলিয়া তাঁহার নাটকের মধ্যে, গল্পের মধ্যে, এমন-কি উপন্যাসের মধ্যেও মূল প্লটের সঙ্গে সঙ্গে একটা ছায়া-প্লট সর্বদাই গাঁথা থাকে—ড্রামার সঙ্গে সঙ্গে একটা গীত-অংশ দেখিতে