পাওয়া যায়। রাজা-নাট্যে বসন্ত-উৎসবের অবতারণা এবং ঠাকুরদার দলের অবতারণা এ নাটকের সেই লিরিক-ভাগ এবং বোধ হয় সর্বোৎকৃষ্ট ভাগ।
গ্রীক কোরাসের আসল অর্থ ছিল নৃত্য কিম্বা নৃত্যের রঙ্গমঞ্চ। গ্রীক দেবতাদের উৎসবে নৃত্য একটা বিশেষ ধর্মানুষ্ঠান ছিল। এই নৃত্য হইতেই ক্রমে গ্রীক নাট্যের উৎপত্তি। গোড়ায় নৃত্যে কোনো কথা ছিল না, ক্রমে নাট্যের উৎপত্তি হইতে কোরাসের মুখে কথা জোগাইল। এই কোরাস গ্রীক নাট্যে একটা বিশেষ লিরিক-রস সঞ্চার করিয়াছিল।
গ্রীক ড্রামা হইতে এই কোরাসের ভাব লইয়া যে রবীন্দ্রনাথ রাজা নাট্যে ঠাকুরদার দলটিকে আনিয়াছেন তাহা বলি না। ইহা নাটকের একটি গভীরতর প্রয়োজন হইতে আসিয়াছে। গিলবার্ট্ মারে গ্রীক কোরাসের যে প্রয়োজনের কথা বলিয়াছেন তাহাও এখানে কতকটা খাটে। তিনি বলিয়াছেন:
It (chorus) will translate the particular act into something universal.
কোরাস একটা বিশিষ্ট ঘটনাকে বিশ্বব্যাপক করিয়া তাহার রূপ পরিবর্তিত করিয়া দেয়। কিন্তু তার চেয়ে বড়ো প্রয়োজন এই যে, সকল নাট্যদৃশ্যের পিছনে একটি অদৃশ্য সত্তার অস্তিত্বের প্রয়োজন আছে—সে স্রষ্টা, সে সাক্ষী। নাট্যের সমস্ত ঘাতপ্রতিঘাতের ভিতর দিয়া যে চরম পরিণাম বা climaxটি তৈরি হইয়া উঠিতেছে, সে তাহার সবটাই যেন জানে। তাহার কাছে যেন রঙ্গমঞ্চের সকল দৃশ্য, সম্মুখ ও পশ্চাদ্ভাগ, নেপথ্য পর্যন্ত অনাবৃত। নাটকের সেই বিচিত্র রসকে সে আপনার অখণ্ড দৃষ্টির দ্বারা এক-রস করিয়া লয়। মধ্যে মধ্যে তাই এই কোরাস আসাতে সেই অখণ্ড রসটি, অখণ্ড সুরটি, সকল বিচিত্রতার ভিতরে ভিতরে জাগিতে থাকে বলিয়া নাটক জিনিসটা নাটক থাকিয়াও একটি