লিরিকের সম্পূর্ণতা লাভ করে।
ঠাকুরদা একটি মুক্ত আত্মা, সর্বদাই আনন্দিত। সকলের মধ্যে তাঁহার প্রবেশ অত্যন্ত স্বচ্ছ, অবাধ এবং সহজ, কারণ বিশ্বের কাছে তাঁহার আত্মদান একেবারে সম্পূর্ণ হইয়া গিয়াছে।—
হাসিকান্না হীরাপান্না দোলে ভালে,
কাঁপে ছন্দে ভালো মন্দ তালে তালে,
নাচে জন্ম নাচে মৃত্যু পাছে পাছে—
তাতা—থৈথৈ তাতা—থৈথৈ তাতা—থৈথৈ।
কী আনন্দ, কী আনন্দ, কী আনন্দ—
দিবারাত্রি নাচে মুক্তি, নাচে বন্ধ।
সে তরঙ্গে ছুটি রঙ্গে পাছে পাছে—
তাতা—থৈথৈ তাতা—থৈথৈ তাতা—থৈথৈ।
বসন্তোৎসবে এই তাঁর নাচের গান। রাজা নাটকে এই কোরাসের গান।
অথচ, ঠাকুরদা বসন্তোৎসবে আনন্দ করিতেছেন বলিয়া দুঃখের কথা মোটেই বিস্মৃত নন। তাঁহাকে যখন কেহ আসিয়া ছেলের মৃত্যু-সংবাদ দিতেছে এবং রাজাকে সেইজন্য অবিশ্বাস করিতেছে তিনি তখন উত্তর দিলেন, ‘ছেলে তো গেলই, তাই বলে ঝগড়া করে রাজাকেও হারাব?’
সে ব্যক্তি বলিল, ‘ঘরে যাদের অন্ন জোটে না তাদের আবার রাজা কিসের!’
ঠাকুরদাদা বলিলেন, ‘ঠিক বলেছিস ভাই! তা, সেই অন্নরাজাকেই খুঁজে বের কর্। ঘরে বসে হাহাকার করলেই তো তিনি দর্শন দেবেন না।’ তার পর গাহিতেছেন—
বসন্তে কি শুধু কেবল ফোটা ফুলের মেলা রে?
দেখিস নে কি শুকনো পাতা ঝরা ফুলের খেলা রে?