বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
রাজা
৫১


যে ঢেউ ওঠে তারি সুরে
বাজে কি গান সাগর জুড়ে?
যে ঢেউ পড়ে তাহারো সুর জাগছে সারা বেলা রে।
বসন্তে আজ দ্যাখ্ রে তোরা ঝরা ফুলের খেলা রে।
আমার প্রভুর পায়ের তলে
শুধুই কি রে মানিক জ্বলে?
চরণে তাঁর লুটিয়ে কাঁদে লক্ষ মাটির ঢেলা রে।
আমার গুরুর আসন-কাছে
সুবোধ ছেলে কজন আছে—
অবোধজনে কোল দিয়েছেন তাই আমি তাঁর চেলা রে।
উৎসবরাজ দেখেন চেয়ে ঝরা ফুলের খেলা রে।

 এ গানের চেয়ে ‘ঝরা ফুলের মেলা’ এবং ‘লক্ষ মাটির ঢেলা’ পৃথিবীর ব্যর্থকাম অবোধজনদের সান্ত্বনার গান কি দুনিয়ায় আর কাহারও দ্বারা কোথাও রচিত হইয়াছে? এতবড়ো ভরসার কথা, পশ্চিমে ডেমোক্র্যাসির জয়গান যিনি করিয়াছেন সেই মহাকবি ওয়াল্ট‍‍্ হুইট্‌ম্যানের একটি কবিতার মধ্যেও নাই।

 এখনকার কালের সভ্যতার বসন্ত-উৎসব যে এই ‘লক্ষ মাটির ঢেলা’ জনগণকে লইয়া। এই-যে সবাই চলিয়াছে খোলা রাস্তার দেশে পা ফেলিয়া ফেলিয়া। এ কালের ডেমোক্র্যাটিক স্টেটের ভাগ্যবিধাতা তো কোনো একজন মানুষও নয়, কোনো একদল মানুষও নয়। এই কারণে সকলেরই মনে কত সংশয় হয়, কত ভয় হয়। মনে হয়, ‘সবাই রাজা’ ভালো, না ‘এক রাজা’ ভালো? অথচ বিজ্ঞ অবিজ্ঞ, সুনীতিপরায়ণ দুর্নীতিপরায়ণ, স্বার্থপর পরার্থপর, দেশহিতৈষী দেশ বিদ্রোহী, ভালো মন্দ মাঝারি, বাল বৃদ্ধ, নর নারী—এই সমস্ত স্তূপ মিলিত হইয়াই আজ তাহা ‘মানবভাগ্যবিধাতা’ হইয়াছে। এই স্তূপের ভিতরেই ভগবান, এই স্তূপ