ভগবানের ভিতরে। ইহার মধ্যে কাহাকে বাদ দিবে, কাহাকেই বা অবজ্ঞা করিবে? বিবেকানন্দের ভাষায়, এ সমস্তই যে ব্রহ্ম, এ সবই যে নারায়ণ।
ঠাকুরদা তাই গাহিতেছেন, ভয় নাই, ভাবনা নাই—
কী আনন্দ, কী আনন্দ, কী আনন্দ—
দিবারাত্রি নাচে মুক্তি নাচে বন্ধ।
ঠাকুরদার এই কোরাসের সুর আগাগোড়া সমস্ত নাটকটির ভিতর দিয়া প্রবাহিত। শেষ পর্যন্ত এই সুর।
আমি বলিয়াছি যে ঠাকুরদাদার প্রয়োজন ছিল সুদর্শনাকে, সুদর্শনার প্রয়োজন ছিল ঠাকুরদাদাকে।
সুদর্শনার পাপের মূলই তাহার আত্মাভিমানে। তাহার কাছে তাহার নিজের রূপটাই ছিল বড়ো, সে বিশ্বকে সেই রূপের ছাঁচে ঢালাই করিতে চাহিয়াছিল। সকল আর্টিস্ট্—প্রকৃতিই তাই চায়। সে তো রাজার কাছে কোনোদিনই আপনাকে নিঃশেষে দান করে নাই; সে রাজাকে ও আপনার রূপ দিয়া কল্পনা করিয়া লইয়া তাঁহাকে আপনার বিশেষ ভোগের সামগ্রী করিতে চাহিয়াছিল। আত্মাভিমানেই আত্মাভিমানের ক্ষয়। তাহার প্রবৃত্তির, তাহার ভোগলালসার, আগুন জ্বালাইয়া সে যখন রাজাকে দেখিল, দেখিল তিনি ‘ঝড়ের মেঘের মতো কালো, কূলশূন্য সমুদ্রের মতো কালো— তারই তুফানের উপরে সন্ধ্যার রক্তিমা’। তখন সে যে ‘ননীর মতো কোমল— শিরীষফুলের মতো সুকুমার— প্রজাপতির মতো সুন্দর’ সৌন্দর্যলোকটি, কল্পলোকটি তৈরি করিয়াছিল, তাহা টেনিসনের Palace of Art’এর মতো এক নিমেষে ধুলিসাৎ হইয়া গেল। সৌন্দর্যের মধ্যে এতদিন সে শুধু দেখিয়াছিল মনোহর অংশটুকু, এখন সৌন্দর্যের অস্তরতর প্রচণ্ড রুদ্র অংশকেও সে দেখিতে পাইল।
এই আত্মাভিমানটি জীবের কাছে ভগবানের সকলের চেয়ে বড়ো প্রার্থনার জিনিস। এইটিই পাত্র, যে পাত্রে তিনি অমৃত পান করেন;