বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

এই গ্রন্থের প্রায় সকল প্রবন্ধই প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল। গত তিন-চারি বৎসরের মধ্যে কবিবর রবীন্দ্রনাথের যে-সকল পুস্তক প্রকাশিত হইয়াছে তাহাদের মধ্যে অনেকগুলি পুস্তকের আলোচনাই এই গ্রন্থে স্থান পাইয়াছে। আমার এই প্রবন্ধগুলিকে গ্রন্থাকারে গ্রথিত করিয়া প্রকাশ করিবার জন্য আমার শ্রদ্ধাভাজন প্রকাশকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

 আমাদের প্রিয়বন্ধু কবি শ্রীযুক্ত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এই গ্রন্থের নামকরণ করিয়া আমাকে স্নেহঋণে আবদ্ধ করিয়াছেন। কাশীপরিক্রমা, ব্রজপরিক্রমা প্রভৃতি প্রাচীন গ্রন্থের নাম আছে। আমরা যে রবীন্দ্রকাব্যতীর্থ পরিক্রমণ করিতেছি তাহার এই সামান্য বৃত্তান্তের নাম কাব্যপরিক্রমা রাখিয়া আমার বন্ধু আমার তীর্থপরিক্রমণ সার্থক করিয়াছেন।

 কাব্যের আলোচনার মধ্যে জীবনস্মৃতি ও ছিন্নপত্র প্রভৃতি গদ্যগ্রন্থের আলোচনা অসংগত বলিয়া কোনো কোনো পাঠকের মনে হইতে পারে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গদ্যগ্রন্থের আলোচনাকে বাদ দিয়া কেবলমাত্র তাঁহার কাব্যের আলোচনা সম্ভাবনীয় নহে।

 ধর্মসংগীত-শীর্ষক প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথের ইংলণ্ডে অবস্থিতি-কালে তথাকার সাহিত্যিক ও গুণীজনের দ্বারা তাঁহার বিশেষভাবে সম্বর্ধিত হইবার উপলক্ষে রচিত হয়। ১৩১৯ সালের অগ্রহায়ণে উহা প্রকাশিত হয়।

 প্রথম প্রবন্ধ জীবনদেবতা সম্বন্ধে একটু নিবেদন আছে। জীবনদেবতার তত্ত্ব সম্যক্‌ বুঝিবার চেষ্টা না করিয়া অনেকে উহা নিতান্ত অলস কল্পনামাত্র মনে করেন। একালের জীবতত্ত্বে অভিব্যক্তিবাদের আলোচনা হইতে মনস্তত্ত্বে ব্যক্তিত্বের মূল ও মানবচৈতন্য সম্বন্ধে যে-সকল নূতন তত্ত্বের উদ্ভব হইয়াছে, জীবনদেবতার ভাবের সহিত তাহাদের