এই নাটিকাটিতেও কবিজীবনের যে—সকল নিগূঢ় অভিজ্ঞতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে—সকল সূক্ষ্ম অনুভাব নানা স্থানে মূর্তিলাভ করিয়াছে, কল্পনাপ্রবণ ব্যক্তিমাত্রেই তাহা পাঠ করিতে করিতে পদে পদে বিস্ময় অনুভব করিতে থাকিবেন। ঠিক যেন একটি অজানা দেশের মতো। তাহার পথের প্রত্যেক মোড়ে, প্রত্যেক বাঁকে নব নব বিস্ময়— তাহা ছাড়া তাহার নানা গলিঘুঁজির তো কথাই নাই। সেই বিস্ময়ের আলোড়নেই সমস্ত নাটিকাটি সজীব হইয়া আছে।
২
মাধবদত্ত সংসারী লোক, সে তাহার স্ত্রীর গ্রামসম্পর্কে ভাইপো অমলকে পোষ্য লইয়াছে। ছেলেটি রুগ্ন—শরতের রৌদ্র আর হাওয়া যাহাতে ছেলেটি না লাগায়, সে বিষয়ে কবিরাজ মাধবদত্তকে সতর্ক করিয়া গিয়াছে। অমলের মন বাহিরে যাইতে না পারিয়া ছট্ফট্ করিতেছে। সে তাহার বাড়ির জানালার নিকট বসিয়া থাকে— দূরে পাহাড় দেখা যায়— পাহাড়ের নীচে ঝর্না, ঝর্নাতলায় ডুমুরগাছ। জানালার সামনেই রাজপথ— ফিরিওয়ালা সুর করিয়া ফিরি করে, রাজার প্রহরী মধ্যাহ্নের স্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎ ঢং ঢং করিয়া ঘণ্টা বাজায়। ঐ দূর পাহাড়, ঐ ঝরনা, ঐ ফিরিওয়ালার সুর, ঘণ্টার ঢং ঢং তাহাকে আনমনা করিয়া দেয়— কোন্ সুদূরের একটি ডাক তাহার বুকের মধ্যে বহন করিয়া আনে।
‘জীবনস্মৃতি’ এবং ‘ডাকঘর’ প্রায় একই সময়ে বাহির হইয়াছে, সুতরাং এ দুয়ের মধ্যে সম্বন্ধ কল্পনা করিতে পারি না কি? সেই ফিরিওয়ালার ডাক, রাত্রে ঘণ্টার শব্দ, সেই কল্পনাভারাক্রান্ত মন— এ তো কোনোমতেই আমাদের অপরিচিত নয়।
‘ক্ষণিকা’য় ‘কবির বয়স’ কবিতায় কবি তাঁহার কেশে পাক ধরিয়াছে