তত্ত্বজ্ঞানীদল স্বীকার করিতেছেন দেখিতে পাই। দার্শনিকশ্রেষ্ঠ আঁরি বের্গ্স বলেন, ‘আমাদের বুদ্ধি এবং বাহিরের বিষয় পরস্পর পরস্পরের অপেক্ষা রাখে। চৈতন্যকে যদি বুদ্ধির গণ্ডী দিয়া ঘিরিয়া রাখ তবে তাহা বাহ্যবিষয়ের সঙ্গে জড়িত হইয়া পড়িবে।’ সুতরাং বুদ্ধির দৃষ্টি খণ্ডিত দৃষ্টি, আধ্যাত্মিক দৃষ্টির সমগ্রতা তাহার নাই। কিন্তু যাঁহারা মানবচিন্তা যে কতদূর অগ্রসর হইতেছে তাহার কোনো সংবাদ রাখেন না, তাঁহারা সকল বড়ো জিনিসকেই পরিহাস করিতে থাকিবেন। ইঁহাদেরই জন্য কি ম্যাথু আর্নল্ড্কে ‘ফিলিস্টাইন’ কথাটা উদ্ভাবন করিতে হইয়াছিল?
৪
ডাকঘরের মূলভাব নাহয় বুঝা গেল, কিন্তু ‘ডাকঘর’ ‘চিঠি’ ‘রাজা’ প্রভৃতি ব্যাপার কী। এই-যে কল্পনাব্যাকুল সৌন্দর্যানুভূতিময় চিত্ত ইহাকে রুগ্ন করিয়া, ঘরে আবদ্ধ করিয়া রাখিবারই বা তাৎপর্য কী এবং রাজার চিঠির জন্য উৎকণ্ঠিত করিয়া তুলিবারই বা অর্থ কী।
আমরা যে রুগ্ন এবং বদ্ধ কেন, তাহার কারণ জিজ্ঞাসা করিবার কী প্রয়োজন আছে? আমরা বাহির হইতে চাই এ কথাটা যতখানি সত্য ততখানি সত্য এই কথাটাও যে, আমাদের অন্তরে বাহিরে নানা বাধা জড়াইয়া আছে। বারবার কি আমাদের বদ্ধ ঘরে অভিসারের বাঁশির ডাক আসে না? কিন্তু হায়, বাঁধন কি একটি, নিষেধ কি সামান্য? মাধব দত্ত-কবিরাজ-রূপী সংসার তো আছেই, সুধাও আসিয়া যে-আধখানা দরজা খোলা আছে তাহাও বন্ধ করিয়া দিতে চায়।—
ওগো সুদূর, বিপুল সুদূর তুমি যে
বাজাও ব্যাকুল বাঁশরি―
কক্ষে আমার রুদ্ধ দুয়ার
সে কথা যে যাই পাশরি!