বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৪
কাব্যপরিক্রমা

পরান কহিছে ধীরে, হে মৃত্যু মধুর,
এই নীলাম্বর এ কি তব অন্তঃপুর?

 মৃত্যু যেন একটি পরিপূর্ণ সুদূর, সমস্তই তাহাতে বিলম্বিত হইয়া সীমা আবরণ উন্মোচন করিয়া মধুর হইয়া উঠে। আমরা একটু আগে ডাকঘরের যে মূল ভাবটির কথা আলোচনা করিয়াছি, মৃত্যুকে এমন পরিপূর্ণ ও মাধুর্যময় করিয়া দেখিলে সে ভাব মৃত্যুর সঙ্গে দিব্য সংগত হয়।

 কারণ, কিছুই যে থাকিবে না, সেইজন্যই তো বাস্তবিক সমস্তই এমন সকরুণ, এমন সুন্দর। মৃত্যু আছে বলিয়াই জগতের কোথাও কোনো ভার নাই। সমস্তই একটি সুদূরের ব্যাপ্ত বিষাদে বেদনার মতো বাজিতেছে। সুতরাং এখানে মৃত্যু যদি পরিণাম হয় তবে তাহাকে কোনোমতেই খাপছাড়া বা আকস্মিক বলা চলে না। কবি যে বলিয়াছেন—

সে এলে সব আগল যাবে ছুটে,
সে এলে সব বাঁধন যাবে টুটে!

মৃত্যু যেন একটি বন্ধনমোচনের আনন্দ হইয়া উঠিবে।

 তবে কি রাজার চিঠির জন্য অমলের যে ব্যাকুলতা সে এই মৃত্যুর জন্য ব্যাকুলতা? না। সে কথা বলিলে রাজার চিঠিকে অত্যন্ত ছোটো করিয়া দেখা হইবে

 রাজা যে অমলের মতো ছোটো মানুষের কাছে আসিতে পারেন এই কথাই তো মোড়ল-জাতীয় লোক বিশ্বাস করে না, তাহারা পরিহাস করিয়া উড়াইয়া দেয়। তাহারা জানে যে, তিনি রাজা, তিনি কেবল বড়ো বড়ো মানুষকেই দেখা দেন। কিন্তু তাঁহার যে-একটি আনন্দ ঐ ছোটো বালকের উপরেও অনস্ত হইয়া আছে, উহার নামে যে তিনি কোন্ অনাদিকাল হইতে পত্র প্রেরণ করিয়াছেন, কতবার যে সেই লিপির আহ্বান কত প্রভাতে সন্ধ্যায় বহিয়া গিয়াছে, তাহা কি মোড়লজাতীয় বুদ্ধিজীবী অবিশ্বাসীরা জানে, না মাধবদত্তের মতো ঘোর