বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ডাকঘর
৬৫

সংসারীরা জানে? একমাত্র লোক যে সেই বার্তা জানে সে ঠাকুরদা।

 ‘শারদোৎসব’ নাটকের সময় হইতেই এই ঠাকুরদাকে কবির প্রয়োজন হইয়াছে। এই একটি মুক্তপ্রাণ মানুষ, যে সকলের সঙ্গে সব হইয়া আছে, যে পরিপূর্ণ আনন্দকে জানে—ইহাকে নহিলে কবির কল্পনাগুলি সমর্থন পাইবে কেমন করিয়া? সোনার তরী, ক্রৌঞ্চদ্বীপ, হাল্কা দেশ প্রভৃতি ব্যাপার যে সত্য সত্যই আছে, সে কথার সাক্ষ্য ঠাকুরদা ভিন্ন দিবে কে? ফিলিস্টাইন-দলকে শাসাইয়া সংযত করিয়াই বা রাখিবে কে?

 ঠাকুরদা বলিতেছেন, ‘শুনেছি তো তাঁর চিঠি রওনা হয়ে বেরিয়েছে।’ কিন্তু কবে?—

আমার মিলন লাগি তুমি
আসছ কবে থেকে।

 অমল উত্তর করিতেছে, ‘তা আমি জানি নে। আমি যেন চোখের সামনে দেখতে পাই, মনে হয় যেন আমি অনেকবার দেখেছি—সে অনেক দিন আগে—কতদিন তা মনে পড়ে না। বলব? আমি দেখতে পাচ্ছি, রাজার ডাক-হরকরা পাহাড়ের উপর থেকে একলা কেবলই নেমে আসছে—বাঁ হাতে তার লণ্ঠন, কাঁধে তার চিঠির থলি। কত দিন কত রাত ধ’রে সে কেবলই নেমে আসছে। পাহাড়ের পায়ের কাছে ঝর্নার পথ যেখানে ফুরিয়েছে সেখানে থাকা নদীর পথ ধ’রে সে কেবলই চলে আসছে—নদীর ধারে জোয়ারির খেত, তারই সরু গলির ভিতর দিয়ে দিয়ে সে কেবলই আসছে; তার পর আখের খেত, সেই আখের খেতের পাশ দিয়ে উঁচু আল চলে গিয়েছে, সেই আলের উপর দিয়ে সে কেবলই চলে আসছে— রাতদিন একলাটি চলে আসছে; ·····যতই সে আসছে দেখছি, আমার বুকের ভিতরে ভারী খুশি হয়ে হয়ে উঠছে।’

 সুতরাং এ চিঠি কখনোই সে চিঠি নয় যে, ‘অমুক দিন অমুক সময়ে তোমার মৃত্যু ঘটিবে।’ এ চিঠি সেই চিঠি যে, ‘আমি তোমাকে বড়ো