বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৬
কাব্যপরিক্রমা

আদর করিয়া আমার এই আহ্বানলিপি পাঠাইলাম। তুমি আমার, তোমাতে আমার আনন্দ আছে।’

 আমি এই জায়গায় আমার পাঠকদিগকে রবীন্দ্রনাথের ‘চিঠি’ নামক কবিতাটি স্মরণ করিতে অনুরোধ করি। সে চিঠিখানিও বিশ্ব-চিঠি, তাহার লিখন কবি জানেন না, কে লিখিয়াছে তাহাও জানেন না—কিন্তু পাইয়াছেন এই স্বপ্নেই তিনি খুশী, তাঁহার বুকের ভিতরটা আনন্দিত হইয়া উঠিতেছে।

 অমল তাই ঠাকুরদাকে বলিতেছে যে, প্রথমে যখন তাহাকে ঘরে বসাইয়া রাখিয়াছিল তাহার মন ছট্‌ফট্ করিতেছিল, এখন ডাকঘর দেখিয়া অবধি প্রত্যহই তাহার ভালো লাগে, ‘ঘরের মধ্যে বসে বসেই ভালো লাগে।’ ‘একদিন আমার চিঠি এসে পৌঁছবে সে কথা মনে করলেই আমি খুশী হ’য়ে চুপ ক’রে বসে থাকতে পারি।’

এইবার পরিণামে আসা গিয়াছে। চিঠি পাইবার ভরসার পর পরিণাম সত্যই পরিণাম, পরিণাম পরিপূর্ণতা।

 প্রথমে আমরা বিশ্বে বাহির হইবার ব্যাকুলতা দেখিলাম, তার পর রাজার চিঠির প্রত্যাশার ঘরে চুপ করিয়া থাকিতেও ভালো লাগে দেখিলাম। এখন দেখি, ‘চোখের উপর থেকে থেকে অন্ধকার হয়ে আসছে। কথা কইতে আর ইচ্ছে করছে না। রাজার চিঠি কি আসবে না?’

 বোধ হয় জগতের কোনো কবিই মৃত্যুকে জীবনের বর বলিয়া কল্পনা করেন নাই, জীবনে মৃত্যুতে যে বিবাহের অতিনিবিড় সম্বন্ধ সে কথা বলেন নাই। রবীন্দ্রনাথের মাঝের বয়সের কবিতায় জীবন ছিল ‘বালিকা বধু’, তখন তাহার বরকে ভয় করিত—‘প্রতীক্ষা’ প্রভৃতি কবিতায় তাই তিনি আরও কিছুদিনের মতো খেলাধুলার ঘরের মধ্যে বাস করিবার