আমাদের দেশের কোনো কবির দ্বারা সম্ভাবনীয় বলিয়া মনে করি না। তাহার কারণ, মানুষের জীবন যে একটা অভিব্যক্তির লীলাক্ষেত্র সেই কথাটা আমাদের চেতনায় যথেষ্ট পরিমাণে উজ্জ্বল হইয়া উঠে নাই।
কবি রবীন্দ্রনাথ যে ‘জীবনস্মৃতি’ লিখিয়াছেন, তাহার নামেই পরিচয় যে, তাহা আত্মজীবনী নহে। বাল্যজীবনস্মৃতিই এই গ্রন্থের চারি ভাগের তিন ভাগ স্থান জুড়িয়া বসিয়াছে। অর্থাৎ, জীবনের কথা যতদূর পর্যন্ত অত্যন্ত নিঃসংকোচে ও নির্ভয়ে বলা যায় ততদূর পর্যন্ত কবি অগ্রসর হইয়াছেন, তার পর শক্তির অভাবের দোহাই দিয়া বিদায় লইয়াছেন। আপনার কথা নিতান্ত সহজে আত্মবিস্মৃতভাবে বলা যে কত কঠিন তাহা কবি নিশ্চয় ভালোরূপেই জানেন। এই গ্রন্থের মধ্যেও তাহার প্রমাণ যে মধ্যে মধ্যে পাই নাই এমন কথাই বা কী করিয়া বলি। যেখানেই তাঁহার নিজের রচনার কথা আসিয়াছে সেখানেই কবি পরিহাসের পর্দার আড়ালে সরিয়া গিয়াছেন—বেচারা রচনা বাহিরের লোকের কৌতূহলী দৃষ্টির মধ্যে মাতা কর্তৃক পরিত্যক্ত শিশুর মতো অসহায় ও সকরুণ অবস্থা প্রাপ্ত হইয়াছে। ভানুসিংহের কবিতা, কবিকাহিনী, ভগ্নহৃদয়, সন্ধ্যাসংগীত, ছবি ও গান প্রভৃতি রচনার আলোচনা দেখিলেই এ কথার সত্যতা বুঝা যাইবে। এই সমালোচনাগুলি যে অসংগত বা অন্যায় হইয়াছে তাহা বলিতেছি না। কারণ, এ সমস্ত রচনাই এত কাঁচাবয়সের যে, সে সম্বন্ধে কবি যাহা লিখিয়াছেন, নিরপেক্ষ সমালোচক হয়তো তদপেক্ষা তীব্রতরভাবে লিখিতে পারিত। কিন্তু কবির যে-একটি সসংকোচ কৌতুকলীলা ইহার মধ্য দিয়া প্রকাশ পাইয়াছে তাহাতেই বেশ বুঝা যায় যে এটি তাঁহার প্রকৃতিগত―তিনি যদি আরও অগ্রসর হইতেন তবে পরিণত বয়সের রচনাগুলিরও অবস্থা অতদূর শোচনীয় না হোক, খুব আরামের হইত না বোধ হয়।
কিন্তু যাহা পাই নাই তাহার জন্য আক্ষেপ থাকিলেও সে আক্ষেপ