বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭২
কাব্যপরিক্রমা

বৃথা। কবির ‘জীবনস্মৃতি’তে জীবনচরিতের স্বাদ না পাইলেও একটি জিনিস ইহার ভিতরে পাওয়া গিয়াছে, যাহা যে-কোনো ভাষায় অতুলনীয়। কবি গ্রন্থের আরম্ভে বলিয়াছেন যে, স্মৃতির পটে জীবনের যে ছবি অঙ্কিত হয় তাহা ইতিহাস নয়, অর্থাৎ যাহা বাহিরে ঘটিতেছে তাহার যথাযথ নকল নয়। তাহা ‘এক অদৃশ্য চিত্রকরের স্বহস্তের রচনা।’ জীবনের সেই নানা বিচিত্র স্মৃতিচিত্রের আনন্দরসে এই গ্রন্থখানি ভরপুর। সেইজন্য ইহা এমন আশ্চর্য। মানুষের জীবনের সকল প্রকারের স্মৃতির মধ্যে যে এমন অপূর্ব একটি চিত্ররস থাকিতে পারে, এই গ্রন্থ না পড়িলে তাহা মনে করাই সম্ভব হইত না।

 আমি দেখিয়াছি, সাহিত্যে অধিক কথার ভার চিত্ররসের পক্ষে ব্যাঘাতকর। নির্মল জলেই যেমন প্রতিবিম্ব পড়ে, সেইরূপ চিন্তার গুরুভারকে সরাইতে না পারিলে লেখা নানা চিত্রে প্রতিফলিত হইয়া বিচিত্র রাগে রঞ্জিত হইবার মতো স্বচ্ছতা লাভ করে না। কবির অনেক বড়ো বড়ো কাব্যে তিনি অনেক বড়ো বড়ো কথা বলিয়াছেন—কিন্তু ‘ক্ষণিকা’য় কোনো বড়ো কথা বলিবার ছিল না বলিয়া, ‘শুধু অকারণ পুলকে’ ক্ষণিক সৌন্দর্যের মধ্যে পরিপূর্ণ আনন্দে ডুব দিবার আয়োজন ছিল বলিয়া তাহা বাংলার গ্রাম্য প্রকৃতির অমন সুন্দর চিত্রমালা হইয়া উঠিয়াছিল। বাস্তবিক ক্ষণিকায়—

শত বরনের ভাব-উচ্ছ্বাস
কলাপের মতো করেছে বিকাশ।

রঙের এমন ছড়াছড়ি, ছন্দের এমন নৃত্যলীলা, কোনো কাব্যে কি কখনও দেখা গিয়াছে?

 এবারেও জীবনচরিত লিখিবেন না বলিয়াই কবি জীবনস্মৃতি লিখিতে বসিয়াছিলেন। তাই শুধু নিজের বাল্যজীবনের চিত্র নয়, বাড়ির চিত্র, পরিবারমণ্ডলীর চিত্র, তৎকালীন সমাজের চিত্র, নানা লোকচিত্র,