বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জীবনস্মৃতি
৭৩

ও প্রকৃতির দৃশ্যচিত্রে গ্রন্থখানি পূর্ণ করিয়া আমাদের হাতে আনিয়া দিয়াছেন।

 এই স্মৃতিচিত্রে যে রঙ পড়ে সে এমন একটি মোহ-মাখানো কল্পনার রঙ যে, আমার বিশ্বাস, কবি যদি চিত্রশিল্পী হইতেন তবে শুদ্ধমাত্র শব্দে সেই রঙ লাগাইয়া তিনি তৃপ্তিবোধ করিতেন না। কিন্তু চিত্র আঁকা তাঁহার আসে না বলিয়া ভাষাতেই চিত্রবিলাসকে মিটাইতে হয়। তথাপি নিপুণ শিল্পীর তুলিতে এই স্মৃতিচিত্রগুলি কী আকার ধারণ করিতে পারে তাহা শুধু কল্পনায় নয়, প্রত্যক্ষরূপে দেখিবার সুযোগ আমাদের ঘটিয়াছে। এই গ্রন্থে কবির সরস হাতের ভাষার চিত্রের সঙ্গে সঙ্গে নিপুণ চিত্রকর শ্রীযুক্ত গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের অঙ্কিত চিত্র যুক্ত হইয়া মণির সঙ্গে কাঞ্চনের যোগের মতো অপূর্ব শোভা খুলিয়াছে। আমরা তো চিত্রশিল্প সম্বন্ধে অনভিজ্ঞ; তথাপি গ্রন্থ পড়িতে পড়িতে বর্ণনার যে একটি মোহরস কল্পনাকে আবিষ্ট করিয়াছে, দেখিতেছি সেই মোহের স্বপ্নাঞ্জন তুলিকায় মাখাইয়া অনতিস্ফুট বিভাসে শিল্পী তাঁহার প্রত্যেকটি চিত্র অঙ্কিত করিয়াছেন। সকল চিত্রগুলিই আমাদের ভালো লাগিয়াছে— তবে কয়েকটি চিত্র সম্বন্ধে শুধু ভালো লাগিয়াছে বলিলে অত্যন্ত অল্প করিয়া বলা হয়। প্রথমত বাড়ির ভিতরের সেই বাগানের চিত্রটি, যাহা তরুণ বালকের নিকটে ‘স্বর্গের বাগান’ ছিল। সেখানে বেশি গাছপালা ছিল না, একটা বাঁধানো চাতাল মাত্র ছিল। কিন্তু দুইটি নবীন চক্ষুর নিকটে তাহাই পর্যাপ্ত ছিল। অঙ্কিত ছবিটিতে সেই অল্পের মধ্যে যে একটি ভরপুর বিস্ময় ও আনন্দ, একটি নিত্যজাগ্রত কৌতূহল, তাহা অস্পষ্ট ছায়াভাসে এমন স্বপ্নময় হইয়া উঠিয়াছে। তার পর সেই রাত্রে বারান্দায় বসিয়া দাসীদের সলিতা পাকানো ও বিশ্রম্ভালাপের চিত্র। একটুখানি অংশে জ্যোৎস্না আসিয়া পড়িয়াছে, বারান্দার অবশিষ্ট অন্ধকারময় অংশে তাহারা বসিয়াছে। চিত্রটি রাত্রির রহস্যে কী পরিপূর্ণ! জ্যোৎস্নালোক