বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৭৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৪
কাব্যপরিক্রমা

রাত্রির সকল আবরণ উন্মোচন করিতে পারে নাই—যে রহস্যভবনের ভিতরে কত কালের কত রূপকথা, কত স্বপ্ন, কত দূরদূরান্তরের কলগুঞ্জন নিবিড় হইয়া আছে, তাহারই এক প্রান্তে দাঁড়াইয়া জ্যোৎস্না উঁকি মারিতেছে। আমরাও তাহার সঙ্গে সঙ্গে ভিতরের দিকে দৃষ্টি ফেলিবার চেষ্টা করিতেছি। তার পর, সম্পূর্ণরূপে আইডিয়াল চিত্র যেগুলি, সেগুলিই বা কী চমৎকার! যেমন ‘হেলাফেলা সারাবেলা এ কী খেলা আপন সনে’ এই গানটির চিত্র। দুপুরবেলার আলস্য-জড়ানো যে একটি ঔদাস্য আছে, বহুদূরের স্বপ্ন যখন মনকে উতলা করিয়া তোলে—ঐ গানটিতে সেই উদাস ব্যাকুলতার একটি সুর আছে। গানটির কথার মধ্যে সেই সুরটিকে ধরা যায় না, কিন্তু গানটি দুপুরে গুন্ গুন্ করিয়া কেহ গাহিলেই তৎক্ষণাৎ মন তাহার অনুরণনে ঝংকৃত হইতে থাকে। এমন একটি সুরকে রূপে ধ্যান করা বড়ো সহজ ব্যাপার নহে। এই ছবিটি তাই কল্পছবি—মানসবনের লীলাপুষ্পের গন্ধ খচিত ছায়াছবি। সকল ছবিই এমনি অপরূপ ―তাহাদের পরিচয় দিতে যাওয়া বৃথা, তাহারা নিবিষ্টভাবে উপভোগের জিনিস। যেগুলি মানুষের চিত্র, যেমন শ্রীকণ্ঠ সিংহের, তাহাদের ভিতরেও অন্তরের প্রতিকৃতিটি কেমন সহজেই উঠিয়া আসিয়াছে। বাস্তবিক এই চিত্রগুলি এ গ্রন্থের বহুমূল্য অলংকার।

 আমি বলিয়াছি যে, ‘জীবনস্মৃতি’তে কবির বাল্যস্মৃতি গ্রন্থের চারি ভাগের তিন ভাগ স্থান অধিকার করিয়াছে। অনেক বয়স্ক পাঠক ইহাতে মনে মনে আপত্তি করিতে পারেন যে, ছেলেবয়সের কথার মধ্যে এত কী লিখিবার বিষয় থাকিতে পারে? বৃন্দাবনের গোষ্ঠলীলায় ভগবান বালকবেশে সখাদের সঙ্গে খেলা করেন, বৈষ্ণব সাহিত্যে তাহার বর্ণনা আছে। তার মানে ভগবান শিশুর সঙ্গে শিশু হইয়াই খেলা করেন—তাঁহার এত বড়ো বিপুল জগৎ একটি শিশুর খেলাঘর বৈ আর কিছুই নয়। সকল মানবের শৈশবের আনন্দলীলাকে যদি সেই অনন্তের মধ্যে পরিপূর্ণ করিয়া