রচিত হইয়াছে এই ধারণায় অনেক বয়স্ক পাঠক তাহা পড়েন না জানি। তাঁহাদেরও দোষ নাই—বড়ো বড়ো হরফে বালকদিগের পাঠের সুবিধার্থে কাব্যটি মুদ্রিত হইয়াছিল। কিন্তু প্রকাশকের আড়ালে এখানে আমরা পাঠকদিগকে বলিয়া রাখি যে, কাব্যটির পুরা রস বুড়া শিশুরাই ভালোরূপে আদায় করিতে পারিবেন। জীবনস্মৃতির সঙ্গে তাহাকে মিলাইয়া পড়িলে চিত্র ও কাব্য উভয়েরই রস একই কালে পাওয়া যাইবে।
তার পর, ইস্কুল-নামক কলের মধ্যে পৃথিবীর কোনো বড়ো কবিই তৈরি হন না, সুতরাং কবির ছাত্রজীবনের কাহিনীতে বিশেষ উপভোগ্য কিছুই নাই। কিন্তু এই বালককালের পঠদ্দশার বিবরণের মধ্যে দুইটি চমৎকার চিত্র আমরা পাইয়াছি। একটি বৃদ্ধ শ্রীকণ্ঠ সিংহের চিত্র, অন্যটি কবির পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের। এই চিত্র দুইটি কবির জীবনের ভাবের এবং কল্পনার অঙ্গীভূত হইয়া গিয়াছে বলিলেও অসংগত হয় না। ইহাদের পরস্পরের মধ্যে একটি ভিতরকার যোগ আছে, সেইজন্য ইহারা কবির কল্পনাকে কেবল স্পর্শমাত্র করিয়া বিদায় লয় নাই, খুব গভীরভাবে আঘাত করিয়াছে। সমুদ্রের উপরিভাগের সঙ্গে সমুদ্রের তলদেশের সম্বন্ধের মতো এই দুইটি চিত্রের পরস্পরের সম্বন্ধ। একটি চঞ্চল, অপরটি স্তব্ধ; একটি আত্মবিহ্বল, অপরটি আত্মসমাহিত; একটি লীলাময়, অপরটি যোগমগ্ন; একটি সজন, অপরটি নির্জন। পূর্ণতার এই দুইটি দিকই কবির কাছে তুল্য আদরণীয়। অল্পবয়সের রচনায় পরিণত বয়সের চিত্র আঁকিবার বেলায় ইহাদের একটি দিকই পুনঃপুনঃ দেখা দিত—ঐ আনন্দবিহ্বল উদার উন্মুক্ত রসোচ্ছ্বসিত দিক। ‘বউঠাকুরানীর হাট’এর বসন্তরায় যেমন। কিন্তু অধিক বয়সের রচনায় ‘রাজা’ প্রভৃতি নাট্যের ঠাকুরদাদার চিত্রে ঐ দুইটি দিকের সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়—পূর্ণতা ও পরিণতির ঐ যেন স্বরূপ।
এই একটি কারণ ব্যতীত, মহর্ষির যে চিত্র পাওয়া গিয়াছে তাহা