বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জীবনস্মৃতি
৭৭

অন্যান্য কারণের জন্যও ভালো করিয়া প্রণিধানযোগ্য। প্রথমত মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্বন্ধে আমরা কিছুই জানি না। সুতরাং সে সম্বন্ধে আমরা সকলেই কিছু-না-কিছু কৌতূহলী। তার পর, তাঁহার পুত্রগণের উপর তাঁহার চরিত্রের ও আদর্শের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব কতটা পড়িয়াছিল তাহাও জানিবার বিষয়। কিন্তু সকলের চেয়ে একটি কারণে এই চিত্রটি আমার মূল্যবান বলিয়া বোধ হয়, তাহারই কথা বলিতেছি।

 গ্রন্থ হইতে আমরা যে শিক্ষা লাভ করি তদপেক্ষা অনেক বেশি শিক্ষা যে মানুষের সঙ্গ হইতে লাভ করি, বোধ হয় এ কথাটা মহর্ষি খুব ভালো করিয়া বুঝিয়াছিলেন। সেইজন্য দেখিতে পাই যে, তাঁহার বাড়িটিকে তিনি সর্বপ্রকার শিক্ষা ও অনুশীলনের একটি আদর্শভূত প্রশস্ত ক্ষেত্র করিয়া তুলিয়াছিলেন। সর্বপ্রকারের গুণীব্যক্তিদিগের সেখানে সমাগম হইয়াছিল। তাঁহারা কেহ-বা পণ্ডিত, কেহ-বা ধর্মপ্রাণ, কেহ-বা গায়ক, কেহ-বা রসজ্ঞ, কেহ-বা সাহিত্যিক, কেহ বা দার্শনিক—কিন্তু সকলেই মহর্ষির নিকটে সম্মান ও সমাদর লাভ করিতেন বলিয়া তাঁহার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। নিজের বাড়ির চতুর্দিকে এই প্রকারের একটা বড়ো আবহাওয়া সৃষ্টি হওয়ায়, তাহার শিক্ষাই কবি ও তাঁহার অগ্রজ ভ্রাতৃগণের জীবনে সর্বাপেক্ষা ফলপ্রদ হইয়াছিল দেখিতে পাওয়া যায়। অক্ষয়কুমার দত্ত, রাজনারায়ণ বসু প্রভৃতি মনীষিগণ মহর্ষির বাড়িতে আপনার লোকের ন্যায় স্থান পাইয়াছিলেন। কবি বাল্যবয়সে বিহারীলাল, অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী প্রভৃতিকেই অবশ্য অধিক দেখিয়াছিলেন। আমার মনে হয় এই কারণেই সাহিত্য, দর্শন, সংগীত, কলাবিদ্যা, ধর্ম প্রভৃতি সকল বিষয়ের একটা সহজ বোধ এবং অনায়াস অধিকার মহর্ষিপরিবারের একটা বিশেষত্ব হইতে পাইয়াছে। কোনো কালেজি শিক্ষায় তাহা কদাচ হইতে পারিত না।