বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৮
কাব্যপরিক্রমা

 এইরূপে বাড়ির মধ্যেই শিক্ষার বীজ প্রচুররূপে ছড়ানো হইয়াছিল বলিয়া, এই অনুকূল পরিবেষ্টনের মধ্যে কবির কাব্যজীবনটি ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হইতেছিল। কবি এই গ্রন্থের অনেক স্থানেই তাহা স্বীকার করিয়াছেন: ‘ছেলেবেলায় আমার একটা মস্ত সুযোগ এই ছিল যে, বাড়িতে দিনরাত্রি সাহিত্যের হাওয়া বহিত।··· বাংলার আধুনিক যুগকে যেন তাঁহারা সকল দিক দিয়া উদ্‌বোধিত করিবার চেষ্টা করিতেছিলেন। বেশে ভূষায় কাব্যে গানে চিত্রে নাট্যে ধর্মে স্বাদেশিকতায় সকল বিষয়েই তাঁহাদের মনে একটি সর্বাঙ্গসুন্দর জাতীয়তার আদর্শ জাগিয়া উঠিতেছিল।··· বাড়িতে কত আনাগোনা··· হাসি ও গল্পে বারান্দা এবং বৈঠকখানা মুখরিত হইয়া থাকিত।’ সুতরাং বাহির হইতে ও ভিতর হইতে কী কী কারণ একত্র হইয়া কবির চিত্তের বিকাশের পক্ষে সহায়তা করিতেছিল, এই গ্রন্থ হইতে তাহার ইতিহাসের নিদর্শনগুলি সংগ্রহ করা কঠিন হইবে না। সর্বদা বিচিত্র প্রকারের সাহিত্য-পাঠ ও আলোচনা-শ্রবণ, গীতচর্চা, নানা লোকের ঘনিষ্ঠ সঙ্গলাভের যে সুযোগ কবি লাভ করিয়াছিলেন এমন পৃথিবীর কয়জন কবির ভাগ্যে ঘটিয়াছে জানি না। এই বাড়ির শিক্ষাই তাঁহার জীবনে সকলের চেয়ে বড়ো শিক্ষা। পৃথিবীতে অনেক স্থানে অ্যাকাডেমি বা অন্য কোনোপ্রকার সংঘ বা সংগত হইতে অনেক ভালো জিনিস উৎপন্ন হইয়াছে, কিন্তু কেবল একটা পরিবার হইতে ধর্মে কর্মে সাহিত্যে চিত্রে সংগীতে দর্শনে স্বাদেশিকতায় সর্ব বিষয়ে এত বিচিত্র এবং আশ্চর্য উৎকর্ষ ও সফলতা বোধ হয় আর কোথাও দেখা যায় নাই। কিন্তু ইহা সেই মহাপুরুষের জন্য যিনি দেশের সকল শক্তিকে এমন সহজে আপনার চতুর্দিকে আকর্ষণ করিয়া আনিয়াছিলেন।

 অথচ, এ কথা স্বীকার করিতেই হইবে যে, কবির জীবন তাঁহার নিজের ভিতর হইতেই একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ—বাহির তাহাকে অল্পই সাহায্য