বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮০
কাব্যপরিক্রমা

ছিল। সে দরজাটি বিশ্বপ্রকৃতির সৌন্দর্য। কবে একদিন হৃদয়ারণ্যের জটিলতায় পথ হারাইয়া সেই দ্বার খুলিতেই কেমন করিয়া অকস্মাৎ ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ হইল তাহার আশ্চর্য ইতিহাস এই গ্রন্থে আছে। কিন্তু নেই নবজাগ্রত নির্ঝর যখন লোকালয়ের মধ্যে আসিয়া পৌঁছিল তখনই জীবনস্মৃতির রচয়িতা তাঁহার চিত্রশালা রুদ্ধ করিয়া তাহার ভবিষ্যৎ বৈচিত্র্যময় গতিকে আর অনুসরণ করিতে দিলেন না।

 তার পর সে যে কেমন করিয়া আপনার জন্মসংস্কারগত বিশ্বানুভূতিকে নানা বাস্তব সত্যের সঙ্গে ক্রমশই সংযুক্ত করিয়া দেশীয় প্রকৃতি ও দেশীয় সাহিত্যের মধ্যে দীর্ঘকাল ভ্রমণ করিয়া বেড়াইয়াছে এবং একদা দেশের প্রাচীনতম সাধনার মূল ধারার সঙ্গে মিশিয়া বৃহৎ ও বিপুল হইয়া উঠিয়াছে, তাহার ইতিহাস এ গ্রন্থে লিখিত হয় নাই। ইংরেজি সাহিত্যের সেই অন্ধ অনুকরণের যুগ, মাঝখানের প্রবল প্রতিক্রিয়ার যুগ এবং আধুনিক কালের দেশীয়-প্রাণে প্রাণবান সাহিত্যকে সকল মানবের সভায় প্রতিষ্ঠিত করিবার গৌরবময় যুগ―ইহাদের একটা হইতে অন্যটার অভিব্যক্তির ক্রমগুলি কী এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যজীবনেই বা তাহা কী ভাবে অনুসরণ করিয়া দেখা যাইতে পারে—ভাবী কবিজীবন রচয়িতার জন্য এই কাজ অপেক্ষা করিয়া রহিল। কিন্তু কবির অন্তরতর জীবনের ‘ভাঙাগড়া-জয় পরাজয়ে’র ভিতর দিয়া যে-একটি বড়ো অভিপ্রায় বিকশিত হইয়া উঠিয়াছে, তাহার রহস্যোদ্ঘাটন কবি ভিন্ন কে করিবে? আম-দরবারে এই কালের মধ্যে তাঁহার প্রকাশ এক রকম করিয়া দেখিবার চেষ্টা করা যাইতে পারে, কিন্তু খাস-দরবারে তাঁহার অন্তরের মধ্যে তিনি আপনাকে আপনি না দেখাইলে সেখানকার দরজা হয়তো চিরকাল বন্ধ থাকিয়াই যাইবে।

 ১৩১৯