বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৮৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৬
কাব্যপরিক্রমা

সে-সকল কবিতায় এরূপ প্রসার, বিচিত্রতা ও সত্যতা কদাচ দেখা যাইত।

 সুতরাং আমি দেখিতে পাইতেছি যে, এই চিঠিগুলির মধ্যে সেইসকল কবিতাসৃষ্টির ও গল্পসৃষ্টির মূল উৎস পাওয়া যায়। এই-যে নিগূঢ় সৌন্দর্য উপভোগ এবং তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, প্রকৃতির সঙ্গে এই-যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা, ইহার মধ্যে সেই রসটি রহিয়াছে যে রসে কলম ডুবাইয়া কবি তাঁহার অমর কাব্য ও গল্প-সকল রচিয়াছেন। সুতরাং সে দিক দিয়াও এগুলি পরম আদরের সামগ্রী হইবে সন্দেহ নাই। উদাহরণস্বরূপে কালিগ্রাম হইতে লিখিত জানুয়ারি ১৮৯১ তারিখের পত্রখানি লওয়া যায়: ‘মনে হয় পৃথিবীর কাছ থেকে আমরা যে সব পৃথিবীর ধন পেয়েছি, এমন-কি কোনো স্বর্গ থেকে পেতুম? স্বর্গ আর কী দিত জানি নে, কিন্তু এমন কোমলতা-দুর্বলতা-ময়, এমন সকরুণ-আশঙ্কা-ভরা অপরিণত এই মানুষগুলির মতো এমন আপনার ধন কোথা থেকে দিত?’ ইত্যাদি। ‘যেতে নাহি দিব’, ‘দরিদ্রা বলিয়া তোরে বেশি ভালোবাসি হে ধরিত্রী’, ‘স্বর্গ হইতে বিদায়’ প্রভৃতি কবিতার ভিতরকার কথা কি এই চিঠির কথার সঙ্গে সায় দেয় না? এমন প্রায় অনেক চিঠিতেই এই সময়কার কোনো-না-কোনো পরিচিত কবিতার সঙ্গে ভাবের সাদৃশ্য পাওয়া যাইবে। শুধু কবিতা নয়, অনেক গল্পের প্লটের ও গদ্যরচনার ইতিহাসও এই চিঠিগুলির মধ্যে লুকাইয়া রহিয়াছে। ‘সমাপ্তি’র মৃন্ময়ী ৪ জুলাই ১৮৯১ তারিখের চিঠিতে ধরা পড়িয়াছে, সাজাদপুরের (১৮৯১ জুন) একটি চিঠিতে ‘ছুটি’ গল্পের ফটিক চক্রবর্তী ছেলেটিকে দেখা গিয়াছে।

 তাই বলিতেছিলাম যে, এই চিঠিগুলি সেই কবিতা ও গল্প রচনার মতোই আর-এক রকমের আত্মপ্রকাশ। সেই-সকল কথাই অন্য আকারে এখানে প্রকাশ পাইয়াছে।

 এগুলি পড়িতে পড়িতে একটি জিনিস কেবলই মনে হয় যে, কবির সঙ্গে প্রকৃতির আত্মীয়তা কী আশ্চর্যরূপে গভীর! কবিতাতে অবশ্য তাহার