পরিচয় যথেষ্ট পাইয়াছি, কিন্তু চিঠিতে আরো অধিক করিয়া পাইলাম। চিঠিগুলিতে চিন্তার কথা অল্পই আছে—ছাপা পুস্তকের গল্প এখানে-সেখানে উঁকি মারিবামাত্র নিরস্ত হইয়াছে। কেবল এই প্রতিদিনের সকাল দুপুর সন্ধ্যা রাত্রি, মেঘ ঝড় বাদল, নদীর তীর, স্নানের ঘাট, গ্রামের সরল জীবনযাত্রা—ইহার খবর কি দিনের পর দিন দিয়াও তাহা কোনোমতে ফুরাইতে চায়! যে-সকল সংবাদ অন্য লোকের কাছে তুচ্ছ, যাহা চোখ দিয়া দেখিলেও মনের মধ্যে লেশমাত্র রেখাপাত করে না, সেই-সকল সংবাদ এই পত্রগুলি নিত্য বহন করিয়াছে এবং নিঃসংশয়ে প্রমাণ করিয়াছে যে, মানুষের জগতের সকলের চেয়ে বড়ো সংবাদের চেয়ে ইহারা কোনো অংশে ন্যূন নহে। বরং জীবনে এই-সকল স্মৃতির সঞ্চয় অন্য সকল সঞ্চয়ের চেয়ে মূল্যবান।
ভাবিয়া দেখি প্রকৃতির এমন পরিপূর্ণ উপভোগ আর কোথায় দেখিয়াছি। ওয়ার্ড্স্ওআর্থ্? কিন্তু তাঁহার সঙ্গে প্রকৃতির সম্বন্ধ যেন হিমাচলে ধ্যান নিমগ্ন অনুত্তরঙ্গ শিবের সঙ্গে সেবারতা পার্বতীর সম্বন্ধের মতো। প্রকৃতির সেই গভীরতম প্রাণলোকের সমাহিত ভাবটিই তাঁহার কাছে অধিক চিত্তহারী।
তার পর মনে পড়ে আমিয়েলের জর্নাল। কিন্তু ফিলজফির ভারে আমিয়েল একেবারে ভারাক্রান্ত—ধর্ম সমাজ সভ্যতা প্রভৃতির কত জটিল সমস্যা ও প্রশ্ন লইয়া তিনি ব্যস্ত। ইহার মধ্যে মধ্যে প্রকৃতির সৌন্দর্য যদিচ ‘পাষাণ-গলা সুধা’র মতো ঝরিয়া পড়িয়াছে, তথাপি এই ছিন্নপত্রের মতো আমিয়েলের ডায়ারিগুলি এমন একটানা প্রবাহ রক্ষা করে নাই। স্থানে স্থানে চিন্তার শৈল আসিয়া সেই সোনার স্রোতের পথরোধ করিয়া দাঁড়াইয়াছে। তার পর থোরোর ‘ওয়াল্ডেন্’এ প্রকৃতির সহবাসের খানিকটা রস পাওয়া যায় বটে, কিন্তু থোরোর প্রকৃতিতে বাস আধুনিক সভ্যতার সহিত বিরোধ—তাহা কতকটা রুশো জাতীয়। এমন স্নিগ্ধ