বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৮৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৮
কাব্যপরিক্রমা

সরল সুগভীর আনন্দময় বাস নহে।

 বরং আমিয়েলের জর্নালের সঙ্গেই ছিন্নপত্রের কতকটা সাদৃশ্য পাওয়া যায়। কারণ, এই চিঠিগুলিতে যেমন চিত্রের পর চিত্র অঙ্কিত হইয়া চলিয়াছে, সকলগুলিতেই কবির উপভোগ এবং তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের পরিচয় বিদ্যমান—তেমনি আর-একটি ভাবের ও চিন্তার মালা সেই চিত্রমালার সঙ্গেই গ্রথিত হইয়া চলিয়াছে যাহা আমিয়েলের জর্নালের কথাই বিশেষভাবে স্মরণ করাইয়া দেয়। কবি এই ছিন্নপত্রে এক জায়গায় সেই জর্নাল সম্বন্ধে যাহা লিখিয়াছেন, আমার মনে হয় তাঁহার এই গ্রন্থ সম্বন্ধে সে কথা আরো বেশি করিয়া খাটে—‘এমন অন্তরঙ্গ বন্ধু আর খুব অল্প ছাপার বইয়ে পেয়েছি। ···অনেক সময় আসে যখন সব বই ছুঁয়ে ছুঁয়ে ফেলে দিতে হয়, কোনোটা ঠিক আরামের বোধ হয় না―যেমন রোগের সময় অনেক সময় বিছানায় ঠিক আরামের অবস্থাটি পাওয়া যায় না, নানা রকমে পাশ ফিরে দেখতে ইচ্ছে করে―কখনো বালিশের উপর বালিশ চাপাই, কখনো বালিশ ফেলে দিই—সেইরকম মানসিক অবস্থায় আমিয়েলের যেখানেই খুলি সেখানেই মাথাটি ঠিক গিয়ে পড়ে, শরীরটা ঠিক বিশ্রাম পায়।’

 ছিন্নপত্রও সেইরূপ ‘অন্তরঙ্গ বন্ধু’র মতো বলিয়া ইহার স্থানে স্থানে উদ্ধৃত করিয়া দেখানো নিস্প্রয়োজন। এমন-কি, ইহা আগাগোড়া পড়িয়া যাইবারও বিশেষ প্রয়োজন নাই। যেখানে খুশি সেখানে খুলিয়া পড়া যাইতে পারে। শহরের গোলমালের মধ্যে, নানা কাজের ভিড়ে একটুখানি অবসর করিয়া লইয়া আমরা এই বইখানির যেখানেই খুলিয়া পড়িব, সেখানেই নিমেষের মধ্যে বাংলার নদীতীরবর্তী গ্রামের সরল সৌন্দর্যের উপর দিয়া সমস্ত মনকে বুলাইয়া লইয়া যাইতে পারিব এবং ভাবের রসে আপনাকে সহজেই রসাইয়া পরম আনন্দ-উপভোগের অধিকারী হইব। চিত্তের সকল ভার ইহা লঘু করিয়া দিতে তিলমাত্র বিলম্ব করিবে না।

 ১৩১৯