বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৯০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৯

ধর্মসংগীত

কিছুদিন হইল ইংলণ্ডে কবি রবীন্দ্রনাথ সেখানকার সাহিত্যসমাজ কর্তৃক এক সান্ধ্য নিমন্ত্রণে যে সংবর্ধনা লাভ করিয়াছিলেন, তাহাতে আইরিশ কবি য়েট্‌স্ সভাপতি হইয়া রবীন্দ্রনাথের তিনটি ধর্মসংগীতের অনুবাদ পাঠ করেন এবং সে সম্বন্ধে তাঁহার অভিমত জ্ঞাপন করেন। কোন্ তিনটি গানের অনুবাদ তিনি পাঠ করিয়াছিলেন, তাহা আমরা জানিতে পারি নাই।[] সংবাদপত্রে দেখিলাম যে, তাহাদের একটিতে ঈশ্বরকে পথিক বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে; আর একটি মৃত্যুর উপরে, যেখানে মাতৃস্তন হইতে শিশুকে কাড়িয়া লইবার উপমা আছে। মৃত্যু সেই এক স্তন হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া স্তনান্তরে মানবশিশুকে পুনরায় আশ্বস্ত করিবার পূর্বে ক্ষণকালীন বেদনা মাত্র—এ ভাবের কবিতা বোধ হয় ‘নৈবেদ্যে’ আমরা পড়িয়াছি। সুতরাং সম্ভবত গান নয়। পথিকরূপে ঈশ্বরকে দেখা তো বহু স্থানেই আছে, যেমন—

কূজনহীন কাননভূমি
দুয়ার দেওয়া সকল ঘরে,
একেলা কোন্ পথিক তুমি
পথিকহীন পথের ’পরে।
হে একা সখা, হে প্রিয়তম,
রয়েছে খোলা এ ঘর মম—
সমুখ দিয়ে স্বপনসম
যেয়ো না মোরে হেলায় ঠেলে।

  1. কবি য়েট্‌স্ যে তিনটি কবিতার অনুবাদ পাঠ করিয়াছিলেন তাহার একটি গীতাঞ্জলিতে, একটি নৈবেদ্যে ও একটি খেয়াতে আছে। (১) ‘শ্রাবণঘনগহন মোহে’ (২) ‘জীবনের সিংহদ্বারে পশিনু যে ক্ষণে’ ও ‘মৃত্যুও অজ্ঞাত মোর’ এই দুইটি চতুর্দশপদী কবিতা একত্র। (৩) ‘অনাবশ্যক’ নামক খেয়ার একটি কবিতা। এই প্রবন্ধ লিখিবার কালে কবিতা-তিনটির নাম জানা যায় নাই।