য়েট্স্, টমাস এ কেম্পিসের ‘খৃস্টের অনুকরণ’-নামক প্রসিদ্ধ ধর্মপুস্তকের সহিত রবিবাবুর এই-সকল গান ও কবিতার তুলনা করিয়া বলিয়াছেন যে, ‘খৃস্টের অনুকরণ’এর রচয়িতা যেমন পাপবোধের দ্বারা অত্যন্ত আক্রান্ত হইয়া সকল বাহ্য সৌন্দর্যকে ভক্তিসাধনের অন্তরায় বলিয়া কল্পনা করিয়াছেন, রবীন্দ্রনাথের কবিতায় সে ভাব আদবেই নাই। তিনি সকল সৌন্দর্যে, সকল ভোগের বস্তুতে ভগবানেরই প্রেমের সাক্ষ্য লাভ করিয়াছেন, তাঁহার প্রেমই সৌন্দর্যরূপে কবির কাছে প্রকাশ পাইয়াছে। আগস্ট মাসের ‘মডার্ন রিভিয়ু’তে অ্যাণ্ড্রুজ সাহেব ‘রবীন্দ্রনাথের সহিত এক-সন্ধ্যা যাপন’ নাম দিয়া যে প্রবন্ধটি লিখিয়াছেন তাহাতেও দেখা গেল যে,এক সান্ধ্য সভায় য়েট্স্ রবিবাবুর এই ধর্মগীতগুলির ইংরেজি গদ্যানুবাদ আবৃত্তি করিবার কালে বলিয়াছেন যে, ভক্তির দিক হইতে এগুলি টমাস এ কেম্পিসের রচনার সঙ্গে তুলনীয়, কিন্তু কবিত্বের দিক হইতে, প্রাকৃত সৌন্দর্যের মধ্যে নিবিষ্টতা ও তন্ময়তার দিক হইতে, ফরাসি বিপ্লবের সমকালীন কীট্স্ শেলি ওয়ার্ড্স্ওআর্থের ভাবনিগূঢ় সৌন্দর্যানুভূতিময় কাব্যের কথা ইহারা স্মরণ করাইয়া দেয়।
কবি য়েট্সের এই অভিমত পাঠ করিয়া, একদা কোনো ভক্তিভাজন ধর্মাচার্য রবীন্দ্রনাথের ধর্মসংগীত সম্বন্ধে কথাপ্রসঙ্গে সম্পূর্ণ বিভিন্ন কী অভিমত প্রকাশ করিয়াছিলেন তাহাই আমার স্মরণে পড়িতেছে। তিনি বলিয়াছিলেন, যে গান আমাদের অন্তরে দুঃসহ পাপবোধ ও তজ্জনিত ব্যাকুলতা না জাগায় সে গান উপাসনাকে পরিপূর্ণ করিতে পারে না। কবিত্বের ভাষা শ্রুতিমধুর, সৌন্দর্যবোধকে সে তৃপ্তিদান করে বটে—কিন্তু তাহার সেই শরবৎ ঋজুগতি (directness) নাই যাহা একেবারেই গিয়া ঈশ্বরের চরণে উপনীত হয়। আমরা যে কত অকিঞ্চন, কত দীনহীন এবং ঈশ্বরের করুণা যে কী অপার—এই দুই ভাব যুগপৎ যে গানে ব্যক্ত হয় তাহাই শ্রেষ্ঠ ধর্মসংগীত। রবিবাবুর গানে কবিত্ব যথেষ্ট আছে, কিন্তু এই