ব্যাকুলতার সুর নাই।
আর একজন ভক্তিমান ব্যক্তি আমায় বলিয়াছিলেন যে, পূর্বেকার গান, যেমন ‘বিষয়সুখে মন তৃপ্তি কি মানে’, যেমন ‘আমি হে তোমারি কৃপার ভিখারি’, কিম্বা সেই পূর্বেকার ভাবে অল্পবয়সে রবিবাবু নিজে যে-সকল গান বাঁধিয়াছিলেন—যেমন ‘শুনেছে তোমার নাম’ বা ‘অন্ধজনে দেহো আলো’ প্রভৃতি—তাহা তাঁহার আধুনিক গানগুলির চেয়ে অনেক বেশি মর্মস্পর্শী। তাঁহার এখনকার গান কানের উপর দিয়াই ভাসিয়া যায়, হৃদয় পর্যন্ত গিয়া পৌঁছায় না।
য়েট্সের মত এবং ইঁহাদের মতে যে পার্থক্য দেখা যাইতেছে তাহার ভিতরকার কারণটা আলোচনা করিয়া দেখা উচিত। য়েট্স যে শুধু কবিত্বের দিক হতে রবিবাবুর ধর্মসংগীতকে ভালো বলিয়াছেন আমার তাহা মনে হয় না। কারণ তাহা হইলে টমাস এ কেম্পিসের গ্রন্থের সঙ্গে এবং প্রাচীন হিব্রু ঋষিদের ভক্তি গাথার সঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথের এ-সকল গান ও কবিতার তুলনাই উত্থাপন করিতেন না। পক্ষান্তরে যে ধর্মাচার্যের কথা বলিলাম তিনি একজন ঈশ্বরনিষ্ঠ সাধক—তাঁহার হৃদয়কে যখন রবীন্দ্রনাথের আধুনিক ধর্মসংগীতগুলি ভরিয়া দেয় নাই তখন তাহার কারণটা কী তাহা অনুসন্ধান করিলে আমরা এ সম্বন্ধে একটা নিরপেক্ষ সত্যবিচারে গিয়া পৌঁছিতে পারিব বলিয়া ভরসা হয়।
এ কথা স্বীকার করিতেই হইবে যে, উপাসনার সময় পুনঃপুনঃ শুনিতে শুনিতে ভাবের অনুবন্ধিতাসূত্রে যে-সকল গান জড়িত হইয়া যায় সেগুলি কবিত্বহিসাবে উৎকষ্ট না হইলেও সাধকের মন সহজেই অধিকার করে। ইউরোপে ধর্মসংগীত এইজন্য এক বিশেষ ধরনের হয়—তাহার সুর কথা ভাব অত্যন্ত সাধারণ হইলেও বহুদিন ধরিয়া তাহার সঙ্গে মানুষ পরিচিত হইয়া আসিয়াছে বলিয়া গাহিবামাত্রই হৃদয়কে স্পর্শ করিতে তাহা তিলমাত্রও বিলম্ব করে না। তাহার স্থানে কোনো কবির রচিত খুব চমৎকার