মনুষ্য প্রকৃতির এ-সকল নিগূঢ় গুহাগতির মধ্যে তাঁহারা কোনোদিনই প্রবেশ করেন না। এ কথা মনেও আনেন না যে, প্রবৃত্তির ঝড় মানুষের মধ্যে অনিবার্যরূপেই জাগে, কিন্তু তাহারই ভিতর দিয়াই তো ভোগবিরত অচঞ্চল শান্তির মধ্যে মানুষ আবার উত্তীর্ণ হয়। পঙ্ককে দেখিয়া পঙ্কজকে নিন্দা করে সেই, যে মূর্খ—কারণ, যে আকাশে পঙ্ককে উদ্ভেদ করিয়া পঙ্কজ মাথা তোলে তাহা উজ্জ্বল নির্মল আকাশ, সেইখানেই সে আপনার সমস্ত সুরভিকে নিঃশেষে বিকীর্ণ করিয়া দেয়।
পাপবোধ ধর্মকে সেই জীবন হইতে বিচ্ছিন্ন করিবারই বোধ, জীবনকে ফুলে ফলে বিকশিত করিবার বোধ নয়। অবশ্য ধর্মজীবনে তাহার কোনো স্থান নাই এতবড়ো দুঃসাহসিকের কথা কোন্ মুখে বলিব, কিন্তু সে স্থান কেমনতর? এই বর্ষার পূর্বে যেমন উত্তপ্ত মাটি-ফাটা গ্রীষ্ম গিয়াছে, তাহারই মতো। গ্রীষ্মের শোষণই যে বর্ষার মেঘকে জন্মদান করিয়াছে। গ্রীষ্মের ঝড়ই যে তাহাকে দিগ্দিগন্তে চালিত করিয়া লইয়া বেড়াইতেছে, গ্রীষ্মের তাপ মাটির আগাছা পরগাছাকে শুকাইয়া, মাটির সমস্ত দূষিত বীজকে দগ্ধ করিয়া ভূমিকে ফলধারণযোগ্য করিয়া দিয়াছে। কিন্তু সেই গ্রীষ্মের পরিণামই যে বর্ষা, দারুণ গ্রীষ্মের মধ্যেও যেমন সে কথা আমাদের অত্যন্ত জানা, তেমনি পাপবোধের শোষণ ও দাহের সঙ্গে সঙ্গে যদি আনন্দ না জাগে, যদি না জানি যে এই জীবনের উপর আমার ফুল ফুটিবে, গন্ধ ছুটিবে, বর্ণ ধরিবে, মধুমক্ষিকার মেলা বসিবে, তবে তো মারা গেলাম! তবে যে দাহ দাহই থাকিল, বর্ষণের মেঘকে সে তৈরি করিল কোথায়? বৈরাগ্য এবং রাগ, পাপের দাহ এবং সান্ত্বনার সুধা একই সময়ে আসা চাই, তবেই প্রাণ বাঁচে। নহিলে সমস্তই কী ভয়ংকর কালো, কী শূন্য, কী অন্ধকারময়!
শুধু ‘না’র দিক দিয়া মানুষের কোনো ভালো করা যায় না—‘হাঁ’ চাই। খৃষ্টধর্ম এখন যে পরিবর্তনের দিকে চলিয়াছে তাহাতে সে এই ‘হাঁ’র দিকটাকেই বড়ো করিয়া তুলিতে প্রয়াস পাইতেছে। কিন্তু তাহার