বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯৬
কাব্যপরিক্রমা

ইতিহাসে বরাবরই এই ভাবাত্মক দিকটার অভাব থাকিয়া গিয়াছিল। সে ‘প্রেমে মুক্তি’ বলিয়াছে, কিন্তু সেই প্রেমটার প্রকাশ সমস্ত জীবনের মধ্যে যে কিরকম তাহার কোনো আভাস দেয় নাই। ব্রাউনিং প্রভৃতি আধুনিক কবির কাব্যের মধ্যে বরং খানিকটা তাহার পরিচয় পাওয়া যায়, কারণ তাঁহারা ‘না’কে একেবারে অস্বীকার করিয়া জীবনের ভিতর হইতে ধর্মের ফুলকে ফুটাইয়াছেন—সমস্তকেই ‘হাঁ’ বলিয়া স্বীকার করিয়া লইয়াছেন। ‘Everlasting Yea’―চিরন্তন হাঁ। সেইজন্য ব্রাউনিঙের মধ্যে পাপবোধ যথেষ্ট নাই এমন অপবাদও কেহ কেহ দিতে ছাড়েন নাই। বস্তুতঃ খৃষ্টধর্ম লইয়া তুমুল আন্দোলনাদির মধ্যে এই কথাটাই সত্য যে, খৃস্টধর্মের সঙ্গে খৃস্টান মানুষের আজিও পুরা বনিবনাও হয় নাই। সে মানুষ জীবনের সম্ভোগে ভরপুর, আর তাহার ধর্ম জীবনের আনন্দকে, সৌন্দর্যভোগকে ডরাইয়া চলে। এই কারণে সে মানুষের মধ্যে ধর্ম এখনো প্রতি দিনের, প্রতি কাজের, প্রতি নিশ্বাসপ্রশ্বাসের, অত্যন্ত ব্যবহারের সামগ্রী হইয়া উঠে নাই। সে অনেকটা পরিমাণে রবিবারের এবং গির্জার জিনিস হইয়া আছে। অবশ্য সাহিত্য এবং শিল্প তাহাকে ক্রমাগত জীবনের ভিতরের দিক হইতে বিকশিত করিয়া তুলিবার জন্য সাধনায় রত রহিয়াছে।

 আমার বিশ্বাস যে, কবিরাই জীবনের সঙ্গে ধর্মের বিচ্ছেদকে ঘুচাইয়া দেন। তাঁহারাই জীবনের সঙ্গে ধর্মের স্বাতন্ত্র্যকে ঐ পরিণামের স্বাতন্ত্র্যরূপে দেখান। তাঁহাদের চাপো আর মারো আর গাল দাও— জীবনের আনন্দকে বাদ দিয়া বৈরাগ্য প্রচার করিতে তাঁহারা কোনোমতেই পারিবেন না।—

নানা গান গেয়ে ফিরি নানা লোকালয়;
হেরি সে মত্ততা মোর বৃদ্ধ আসি কয়—
তাঁর ভৃত্য হয়ে তোর এ কী চপলতা!
কেন হাস্যপরিহাস, প্রণয়ের কথা!