বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৯৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ধর্মসংগীত
৯৭


কেন ঘরে ঘরে ফিরি তুচ্ছ গীতরসে
ভুলাস এ সংসারের সহস্র অলসে!
দিয়াছি উত্তর তারে, ওগো পক্ককেশ,
আমার বীণায় বাজে তাঁহারি আদেশ!
যে আনন্দে, যে অনন্ত চিত্তবেদনায়
ধ্বনিত মানবপ্রাণ, আমার বীণায়
দিয়াছেন তারি সুর, সে তাঁহারি দান;
সাধ্য নাহি নষ্ট করি সে বিচিত্র গান!

ইহারই জুড়ি কবিতা ব্রাউনিঙের ‘ফ্রা লিপ্পো লিপ্পি’। ফ্রা লিপ্পো লিপ্পি এক মধ্যযুগীয় চিত্রকর। তিনি সংসারবিরাগী সন্ন্যাসীদের সঙ্গে এক মঠে ছিলেন, কিন্তু তাঁহাদের অনুমতিক্রমে কেবল স্বর্গের দেবদূত পরী এবং অন্যান্য কাল্পনিক ছবি না আঁকিয়া মধ্যে মধ্যে জীবনের আনন্দে রাজপথের জীবন্ত নরনারীদের ছবি আঁকিয়া ফেলিতেন এবং মঠের পক্ককেশ সন্ন্যাসীদের এই উত্তরই দিতেন—

আমার তুলিতে সাজে তাঁহারি আদেশ।

 আমাদের ভারতবর্ষে জীবনের সঙ্গে ধর্মের যে তেমনতর বিচ্ছেদ ঘটে নাই তাহারও প্রধান কারণ আমার এই মনে হয় যে, আমাদের সৌভাগ্যক্রমে আমাদের অনেক ধর্মপ্রবর্তক মহাপুরুষ একাধারে কবি এবং সাধক ছিলেন। বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্ম এবং তাহার অবসানকালে শক্তিপূজা যথেষ্ট পরিমাণে প্রভাব বিস্তার করিলেও বৈষ্ণবধর্মের ভাবপ্লাবনকে ঠেকাইয়া রাখিতে পারে নাই। বাংলা গীতসাহিত্যে বৈষ্ণবই একা রাজত্ব করিতেছে।

 বৈদিক ঋষিরা কবি, উপনিষদ্‌কারগণ কবি, কবীর নানক দাদূ অত্যন্ত উচ্চশ্রেণীর কবি— সুতরাং কেমন করিয়া আমাদের দেশের ধর্মসাহিত্য রূপরসের দাবিকে অগ্রাহ্য করিবে, বিশ্বসৌন্দর্যকে নির্বাসনদণ্ড দিবে?