পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাম্ভর করে। বড়ো-ইংরেজ এ কথা বুঝিবেই যে, বালির উপর বাড়ি করা চলে না, একের শক্তিহীনতার উপরে অপরের শক্তির ভিত্তি কখনোই পাকা হইতে পারে না । কিন্তু ছোটো-ইংরেজ অগ্রসর হইয়া চলে না । যে দেশকে সে নিশ্চল করিয়া বাধিয়াছে, শতাব্দীর পর শতাব্দী সেই দেশের সঙ্গে সে আপনি বাধা । তার জীবনের এক পিঠে আপিস, আর-এক পিঠে আমোদ । যে পিঠে আপিস সে পিঠে সে ভারতের বহুকোটি মানুষকে রাষ্ট্রকের রাজদণ্ডের বা বণিকের মানদণ্ডের ডগাটা দিয়া স্পর্শ করে, আর যে পিঠে আমোদ সে পিঠট চাদের পশ্চাদিকের মতো বংগরের পর বৎসর সম্পূর্ণ অদৃশু । তবু কেবলমাত্র কালের অঙ্কপাত হিসাব করিয়া ইহারা অভিজ্ঞতার দাবি করে । ভারত-অধিকাবের গোড়ায় ইহার স্বজনের কাজে রত ছিল, কিন্তু তাহার পর বহুদীর্ঘকাল ইহার পাকা সাম্রাজ্য ও পাকা বাণিজ্যকে প্রধানত পাহার দিতেছে ও ভোগ করিতেছে । নিরস্তর রুটিনের ঘানি টানিয়া ইহারা বিষয়ী লোকদের পাকা প্রকৃতি পাইয়াছে, সেই প্রকৃতি কঠিন অসাড়তাকেই বল বলিয়া থাকে। তারা মনে করে, তাদের আপিসট মুনিয়মে চলিতেছে, এইটেই বিশ্বের সব চেয়ে বড়ো ঘটনা । কিন্তু অপিসের জালনার বাহিরে রাস্তার ধুলার উপর দিয়া বিশ্বদেবতা তার রথযাত্রায় অতিদীনকেও যে নিজের সারধ্যেই চালাইতেছেন, এষ্ট চালনাকে তারা অশ্রদ্ধা করে। অক্ষমের সঙ্গে নিয়ত কারবার করিয়া এ কথা তারা ধ্রুব বলিয়া ধরিয়া লইয়াছে, যেমন তারা বর্তমানের মালিক তেমনি তারা ভবিষ্যতের নিয়ন্ত । আমরা এখানে আসিয়াছি এষ্ট কৰা ৰলিয়াই তারা চুপ করে না, "আমরা এখানে থাকিবই এই কথা বলিয়া তারা স্পর্ধ করে । অতএব, ওরে মরীচিকালুব্ধ জ্বর্ভাগ, বড়ো-ইংরেজের কাছ হইতে জাহাজ বোঝাই করিয়া বর আসিতেছে, কেবল এই আশাটাকে বুকে છે આ