পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তুর দেখ নাই কি, বরদানের সংকল্প-ব্যাপারে ভারত-গবর্মেন্টের উচ্চতম বিভাগের যোগ আছে শুনিয়া এদেশী ইংরেজের সংবাদপত্র অট্টহাস্তে প্রশ্ন করিতেছে, ভারত-সচিবদের স্বায়ুবিকার ঘটিল নাকি ? এমন কী উংপাতের কারণ ঘটিয়াছে যে বজ্রপাত-ডিপার্টমেণ্ট হইতে হঠাৎ বৃষ্টিপাতের আয়োজন হইতেছে ? অথচ আমাদের ইস্কুলের কচি ছেলেগুলোকে পর্যন্ত ধরিয়া যখন দলে দলে আইনহীন রসাতলের নিরালোক ধামে পাঠানো হয় তখন ইহারাই বলেন, "উৎপাত এত গুরুতর যে, ইংরেজ-সাম্রাজ্যের আইন হার মানিল, মগের মুলুকের বে-আইনের আমদানি করিতে হইল।” অর্থাং মারিবার বেলায় যে আতঙ্কটা সত্য, মলম দিবার বেলাতেই সেটা সত্য নয়। কেননা মারিতে খরচ নাই, মলম লাগাইতে খরচ আছে । কিন্তু তা ও বলি, মারিবার খরচার বিল কালে মলমের খরচার চেয়ে বড়ো হইয়। উঠিতে পারে । তোমরা জোরের সঙ্গে ঠিক করিয়া আছ যে, ভারতের যে ইতিহাস ভারতবাসীকে লইয়া, সেটা সামনের দিকে বহিতেছে না, তাহ ঘূর্ণির মতো একটা প্রবল কেন্দ্রের চারি দিকে ঘুরিতে ঘুরিতে তলার মুখেই ঝুঁকিতেছে। এমন সময় আপিস হইতে বাহির হইবার কালে হঠাৎ এক দিন দেখিতে পাও স্রোতটা তোমাদের নকশার রেখা ছাড়াইয়া কিছু দূর আগাইয়া গেছে। তখন রাগিয়া গর্জাইতে গর্জাইতে বল, ‘পাথর দিয়া বাধে। উসকো, বধি দিয়া উহাকে ঘেরে।" প্রবাহ তখন পথ না পাইয়া উপরের দিক হইতে নীচের দিকে তলাইতে থাকে – সেই চোর প্রবাহকে ঠেকাইতে গিয়া সমস্ত দেশের বক্ষ দীর্ণ বিদীর্ণ করিতে থাক । আমার সঙ্গে এই ছোটো-ইংরেজের বে-একটা বিরোধ ঘটিয়াছিল সে কথা বলি। বিনা বিচারে শত শত লোককে বন্দী করার বিরুদ্ধে কিছু দিন আগে একখানি ছোটো চিঠি লিখিয়াছিলাম । ইহাতে ভারতজীবী >岛