পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর দেশের যেসব লোক স্বার্থপর ও চতুর, যারা অবৈতনিক গুপ্তচরবৃত্তি করাই উন্নতির উপায় বলিয়া জানে, তাদের বিষাক্ত প্রভাব শাসনতন্ত্রের ছিজে ছিত্রে প্রবেশ করিয়া তাহাকে মিথ্যায় এবং মিথ্যার চেয়ে ভয়ংকর অর্ধপত্যে ভরিয়া রাখে । যারা স্বার্থের চেয়ে আত্মসন্মানকে বড়ো জানে, যারা নিজের উন্নতির চেয়ে দেশের মঙ্গলকে শ্রেয় বলিয়া জানে, তারা যতক্ষণ না পুলিলের গ্রালে পড়ে ততক্ষণ এই শাসনব্যবস্থা হইতে যথাসম্ভব ঘুরে থাকে । এই নিয়ত পা টিপিয়া চলা এবং চুপিচুপি বল, এই দিনরাত আড়ে আড়ে চাওয়া এবং ঝোপে ঝাড়ে ঘোরা— আরকিছু নয়, এই যে অবিরত পুলিলের সঙ্গ করা— এই কলুষিত হাওয়ার মধ্যে যে শাসনকর্তা বাস করেন তার মনের সন্দেহ কাজে নিদারুণ হইয়া উঠিতে কোনো স্বাভাবিক বাধা পায় না । কেননা, তাদের কাছে আমরা একট অবচ্ছিন্ন সত্তা, আমরা কেবলমাত্র শাসিত সম্প্রদায় । সেইজন্ত আমাদের ঘরে যখন মা কাদিতেছে, স্ত্রী আত্মহত্য করিতেছে, শিশুদের শিক্ষণ বন্ধ, যখন ভাগ্যহীন দেশের বহু দুঃখের সংচেষ্টাগুলি লি-আই-ডি’র ব্যক ইশারা মাত্রে চারি দিকে ভাঙিয়া ভাঙিয়া পড়িতেছে— তখন অপর পক্ষের কোনো মাছুষের ডিনারের ক্ষুধা বা নিশীথনিদ্রার ব্যাঘাত ঘটে না এবং ব্রিজ-খেলাতেও উৎসাহ অক্ষুণ্ণ থাকে। ইহা দোষারোপ করিয়া বলিতেছি না, ইহা স্বাভাবিক । এই-সব মানুষই যেখানে ষোলো-অান মাস্থ্য, সেখানে আপিলের শুকনো পার্চমেন্টের নীচে হইতে তাদের হৃদয়টা সম্ভবত ৰাছির হইয়া থাকে। ব্যুরোক্রেসি বলিতে সর্বত্রই সেই কর্তাদের বোঝায় যারা বিধাতার হুষ্ট মনুষ্যলোক লইয়। কারবার করে না, যারা নিজের বিধানরচিত একটা কৃত্রিম জগতে প্রভুত্বজাল বিস্তার করে । স্বাধীন দেশে এই ব্যুরোক্রেসি সর্বপ্রধান নয়, এইজন্ত মানুষ ইছাদের ফঁাকের মধ্য দিয়া বাড়িয়া উঠিতে পারে। অধীন দেশে এই ব্যুরোক্রেসি কোথাও একটুও X o 8