পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর অসুবিধা অনুসারে, নিজের লাভক্ষতির পরিমাণ বুঝিয়া, ইহার ধর্মবুদ্ধিকে কমাইয়া বাড়াইয়া বেশ সহজ করিয়া আনিতে পারিয়াছে। কিন্তু সুবিধার মাপে সত্যকে ছাটিতে গেলে সত্যও আমাদিগকে ছাটিতে আসে। কিছু দিন ও কিছু দূর পর্যস্ত সে অবজ্ঞা সহ করিয়া যায়। তার পরে এক দিন হঠাৎ সে সুদে আসলে আপনার পাওনা আদায় করিতে আসিয়া উপস্থিত হয় । এমন সময়ে আগে যেটা অত্যস্ত অসুবিধার সময়, এমন উপলক্ষ্যে আসে যেটা হয়তো অত্যন্ত তুচ্ছ । তখন সেটাকে আমরা বিধাতার অবিচার মনে করি । অধর্মের টাকায় ভদ্র সমাজে যে মানুষ গৌরবে বয়স কাটাইল, হঠাৎ এক দিন যদি তার খাতা ধরা পড়ে তবে সেটাকে সে অঙ্গয় অত্যাচার বলিয়াই মনে করে । বড়ো বড়ো সভ্য জাতি তেমনি আপন সমৃদ্ধিকে এমনি স্বাভাবিক এবং সুসংগত বলিয়া মনে করে যে, ছুদিন যখন তার সেই সমৃদ্ধির ইতিহাস লইয়া কৈফিয়ত তলব করে তখন সেটাকে সে সুবিচার বলিয়া মনেই করিতে পারে না । এইজন্ত দেখিতে পাই, যুরোপ যখন কঠিন সংকটে পড়ে তখন বিধাতার রাজ্যে এত দুঃখ কেন ঘটে তা লইয়া সে ভাবিয়া কুল পায় না । কিন্তু পৃথিবীর অন্ত অংশের লোকেরাই বা কেন দুঃখ এবং অপমান ভোগ করে, সে কথা লইয়া বিধাতাকে কিম্ব নিজেকে তেমন জোরের সঙ্গে এর প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে না। তা হউক, এই সহজ সত্যটুকু তার ভালো করিয়াই জানা দরকার ছিল যে, মহুষ্যত্ব জিনিস একটা অখণ্ড সত্য, সেটা সকল মানুষকে লইয়াই বিরাজ করিতেছে। সেটাকে যখন কেছ স্বার্থের বা স্বজাতির খাতিরে খণ্ডিত করে তখন শীঘ্রই হোক, বিলম্বেই হোক, তার আঘাত এক দিন নিজের বক্ষে আসিয়া পৌছে। ঐ মনুষ্যত্বের উপলব্ধি কী পরিমাণে সত্য হইয়াছে ইহা লইয়াই সভ্যতার বিচার হইবে— নহিলে, তার আমদানি-রফতানির প্রাচুর্য, তার রণতরীর দৈর্ঘ্য, } >8