পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তর নিয়মের সঙ্গে মামুষের জ্ঞানের সহযোগিতা আছে, বিজ্ঞান ইহাই প্রমাণ করে। প্রকৃতির নিয়মের সাহায্যেই প্রাকৃতিক নির্বাচনের অধীনতা কাটাইয়া মানুষ আপন ধর্মবিবেকের স্বাধীন নির্বাচনের গৌরব লাভ করিতে পারে, ইহাই বিজ্ঞানের শিক্ষা। প্রকৃতি যে মামুষের পরিপূর্ণতালাভের পথে অস্তুরায় নহে, প্রকৃতির সহিত সত্য ব্যবহার করিয়া তবেই আমাদের চিন্ময়কে রূপদান করিয়া তাহার বাস্তু প্রতিষ্ঠা করিতে পারি, য়ুরোপের প্রতি এই সত্য-প্রচারের ভার আছে। বিজ্ঞান যেখানে সর্বসাধারণের দুঃখ এবং অভাব -মোচনের কাজে লাগে, যেখানে তার দান বিশ্বজনের কাছে গিয়া পৌছায়, সেইখানেই বিজ্ঞানের মহত্ত্ব পূর্ণ হয় । কিন্তু, যেখানে সে বিশেষ ব্যক্তি বা জাতিকে ধনী বা প্রবল করিয়া তুলিবার কাজে বিশেষ করিয়া নিযুক্ত হয়, সেখানেই তার ভয়ংকর পতন । কারণ, ইহার প্রলোভন এত অত্যস্ত প্রকাও রূপে প্রবল যে, আমাদের ধম বুদ্ধি তার কাছে অভিভূত হইয় পড়ে এবং স্বজাতা ও স্বদেশিকত প্রভৃতি বডো বড়ো নামের বর্ম পড়িয়। নিজেরই শক্তির বিরুদ্ধে দাড়াইয়া লড়াই করে । ইহাতে আজ জগতের সর্বত্র এক জাতির সঙ্গে অন্ত জাতির সম্বন্ধ দুর্বলের দিকে দলমবন্ধনের দ্বারা ভারগ্রস্ত এবং প্রবলের দিকে হিংস্রতার অস্তহীন প্রতিযোগিতায় উদ্ধত হইয়া উঠিতেছে ; সকল দেশে যুদ্ধ ও যুদ্ধের উদযোগ নিত্য হইয়া উঠিয়াছে এবং পোলিটিকাল মহামারীর বাহন যে রাষ্ট্রনীতি তাহ নিষ্ঠুরতা ও প্রবঞ্চনায় অস্তরে অস্তরে কলুষিত হইতে থাকিল । তথাপি এই আশা করি, যুরোপের এত দিনের তপস্তার ফল অঞ্জ বস্তুলোভের ভীষণ দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়িয়া পায়ের তলায় ধুলা হইয়া যাইবে না। আজিকার দিনের প্রচণ্ড সংকটের বিপাকে যুরোপ আর-কোনোএকটা নূতন প্রণালী, আর-একটা নূতন রাষ্ট্রনৈতিক ব্যবস্থা খুজিয়া Y S \b