পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বাধিকারপ্রমত্ত: বেড়াইতেছে। কিন্তু বারম্বার মৃত্যুর পাঠশালায় শিক্ষালাভের পরে যুরোপকে আজ না হয় তো আর-এক দিন এ কথা মানিতেই হইৰে যে, কেবল কার্যপ্রণালীর পিরামিড-নির্মাণের প্রতি আস্থা রাখা অন্ধ পৌত্তলিকতা ? তাহাকে এ কথা বুঝিতে হইবে, বাহিরের প্রণালীকে নয়, অস্তরের সত্যকে পাওয়া চাই ; এ কথা বুঝিতে হইবে যে, ক্রমাগতই বাসনা-হুতাগ্নির হুব্য সংগ্ৰহ করিতে থাকিলে এক দিন জগদব্যাপী অগ্নিকাণ্ড না ঘটিয়া থাকিতে পারে না । এক দিন জাগিয়া উঠিয়া যুরোপকে তার লুন্ধত এবং উন্মত্ত অহংকারের সীমা বাধিয়া দিতে হুইবে ; তার পরে সে আবিষ্কার করিতে পরিবে যে, উপকরণই যে সত্য তাহা নয়, অমৃতই সত্য । ঈর্ষার অন্ধতায় য়ুরোপের মহত্ত্ব অস্বীকার করিলে চলিবে না । তার স্থানসন্নিবেশ, তার জলবায়ু, তার জাতিসমবায়, এমন ভাবে দটিয়াছে যে, সহজেই তার ইতিহাস শক্তি সৌন্দর্য এবং স্বাতন্থপরতায় সম্পদশালী চষ্টয়া উঠিয়াছে । সেখানকার প্রকৃতিতে কঠোরতা এবং মৃস্থতার এমন একটি সামঞ্জস্ত আছে যে, তাহ এক দিকে মানবের সমগ্র শক্তিকে দ্বন্দ্বে আহবান করিয়া আনে, আর-এক দিকে তাহার চিত্তকে অভিভূত করিয়া নিশ্চেষ্ট অদৃষ্টবাদে দীক্ষিত করে না । এক দিকে তাহা যুরোপের সস্তানদের চিত্তে এমন তেঙ্কের উদ্রেক করিয়াছে যে, তাছাদের উদ্যম ও সাহস কোথা ৪ অপেন দাবির কোনো সীমা স্বীকার করিতে চায় না ; অপর দিকে তাছাদের বুদ্ধিতে অপ্রমাদ, তাহদের কল্পনাবৃত্তিতে সুসংযম, তাহীদের সকল রচনায় পরিমিতি এবং তাহদের জীবনের লক্ষোর মধ্যে বাস্তবতাবোধের সঞ্চার করিয়াছে । তাহার একে একে বিশ্বের গৃঢ় রহস্তসকল বাহির করিতেছে, তাছাকে মাপিয়া ওজন করিয়া আয়ত্ত করিতেছে ; তাহার প্রকৃতি র মধ্যে অস্থরতর যে-একটি ঐক্যতত্ত্ব আবিষ্কার করিয়াছে তাহ ধ্যানযোগে বা তর্কের বলে নয়— তাছ > S ^