পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাস্তুর বাহিরের পর্দা ছিন্ন করিয়া, বৈচিত্র্যের প্রাচীর ভেদ করিয়া । তাহারা নিজের শক্তিতে রুদ্ধ দ্বার উদঘাটিত করিয়া প্রকৃতির মহাশক্তিভাণ্ডারের মধ্যে আসিয়া উত্তীর্ণ হইয়াছে এবং লুব্ধ হন্তে সেই ভাণ্ডার লুণ্ঠন করিতেছে । নিজের এই শক্তি সম্বন্ধে যুরোপের দম্ভ অত্যন্ত বাড়িয়াছে বলিয়াই, কোথায় যে তার নূ্যনতা তাছা সে বিচার করে না । বাহ প্রকৃতির রূপ যে দেশে অতিমাত্র বৃহৎ বা প্রচও সে দেশে যেমন মামুষের চিত্ত তাহার কাছে অভিভূত হইয়া আত্মবিস্মৃত হয়, তেমনি মানুষ নিজকৃত বস্তুসঞ্চয় এবং বাহ রচনার অতিবিপুলতার কাছে নিজে মোহাবিষ্ট হইয়া পরাস্ত হইতে থাকে । বাহিরের বিশালতার ভারে অস্তরের সামঞ্জস্ত নষ্ট হইতে হইতে এক দিন মামুষের সমুদ্ধি ভয়ংকর প্রলয়ের মধ্যে ধুলায় লুটাইয়া পড়ে। রোম এক দিন আপন সাম্রাজ্যের বিপুলতার দ্বারাই আপনি বিহ্বল হইয়াছিল । বস্তুর অপরিমিত বুহুত্ত্বের কাছে তার সত্য যে প্রতিদিন পরাভূত হই তেছিল, ত ছা সে নিজে জানিতেই পারে নাই । অথচ সেদিন য়িহুদি ছিল রাষ্ট্রব্যাপারে পরতন্ত্র, অপমানিত । কিন্তু, সেই পরাধীন জাতির একজন আখ্যাতনামা অকিঞ্চন যে সত্যের সম্পদ উদঘাটিত করিয়া দিল তাছাই তো কৃপাকার বস্তুসঞ্চয়ের উপরে জয়লাভ করিল। য়িহুদি উদ্ধত রোমকে এই কথাটুকু মাত্র স্মরণ করাইয়া দিয়াছিল যে, আপন আত্মাকে ভূমি আপন ধনের চেয়ে বড়ো করিয়া জানে।’ এই কথাটুকুতেই পৃথিবীর ইতিহাসে নূতন যুগ আসিল । দরিদ্রের কথায় আপনার উপর মামুষের শ্রদ্ধা জন্মিল, আত্মাকে লাভ করিবার জন্য সে বাছির হইল। বাহিরে তাহার বাধা বিস্তর, তবু নিজের সঙ্গে লড়াই করিতে করিতে অমৃতলোকের দিব্য সম্পদ অর্জন করিবার জন্ত সে অগ্রসর হইতেছিল। এমন সময়ে তাহার তপস্তা ভঙ্গ > >br