পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালীম্ভর প্রামাণিকভ দাবি করতে পারে না । বিশ্বতত্ত্ব সম্বন্ধে যেমন, তেমনি চরিত্রনীতি সম্বন্ধেও। নতুন শাসনে যে আইন এল তার মধ্যে একটি বাণী আছে, সে হচ্ছে এই যে, ব্যক্তিতেনে অপরাধের ভেদ ঘটে না । ব্রাহ্মণই শূত্রকে বধ করুক বা শূত্রই ব্রাহ্মণকে বধ করুক, হত্যা-অপরাধের পংক্তি একই, তার শাসনও সমান— কোনো মুনিঋষির অঙ্কুশাসন স্কায়-অম্ভায়ের কোনো বিশেষ দৃষ্টি প্রবর্তন করতে পারে না । ■ সমাজে উচিত-অঙ্কুচিতের ওজন, শ্রেণীগত অধিকারের বাটখারাযোগে আপন নিত্য আদর্শের তারতম্য ঘটাতে পারবে না, এ কথাটা এখনো আমরা সর্বত্র অন্তরে অন্তরে মেনে নিতে পেরেছি তা নয়, তৰু আমাদের চিন্তায় ও ব্যবহারে অনেকখানি বিপ্লব এনেছে সন্দেহ নেই। সমাজ বাদের অস্পৃশুশ্রেণীতে গণ্য করেছে তাদেরও আজ দেবালয়প্রবেশে ৰাধা দেওয়া উচিত নয়, এই আলোচনাটা তার প্রমাণ। যদিও এক দল লোক নিত্যধর্মনীতির উপর ভর না দিয়ে এর অমুকুলে শাস্ত্রের সমর্থন আওড়াচ্ছেন, তবু সেই আপ্তবাক্যের ওকালতিটাই সম্পূর্ণ জোর পাচ্ছে না। আসল এই কথাটাই দেশের সাধারণের মনে বাজছে যে, যেটা জন্তায় লেট। প্রথাগত শাস্ত্রগত বা ব্যক্তিগত গায়ের জোরে শ্রেয় হতে পারে না, শংকরাচার্য উপাধিধারীর স্বরচিত মার্ক সত্ত্বেও সে अवटेन नश्व । মুসলমান-আমলের বাংলা সাহিত্যের প্রতি দৃষ্টি করলে দেখা যায় যে, আৰাধে অন্তায় করবার অধিকারই যে ঐশ্বর্ষের লক্ষণ এই ৰিশ্বাসট। কলুষিত করেছে তখনকার দেবচরিত্র-কল্পনাকে । তখনকার দিলে যেমন অত্যাচারের দ্বারা প্রবল ব্যক্তি আপন শাসন পাকা করে স্কুলত, তেমনি করে অন্যায়ের বিভীষিকায় দেৰদেৰীয় প্রতিপত্তি আমরা কল্পনা করেছি। সেই নিষ্ঠুর বলের হার-জিতেই তাদের শ্রেষ্ঠতা-জশ্রেষ্ঠতার প্রমাণ হত । o