পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাতায়নিকের পত্র পরিমাণ ; কাজেই তাদের ছুটি মেলে, বরাদ ছুটির বেশি কাজ করাকে তারা লোকসান ব’লে গণ্য করে । কিন্তু অহংকারের তাগিদে যারা কাজ করে তাদের আর ছুটি নেই ; লোকসানকেও তার লোকসান জ্ঞান করে না । আমাকে নইলে চলে না, এই কথা মনে করে এত দিন ভারি ব্যস্ত হয়ে কাজ করা গেছে, চোখের পলক ফেলতে সাহস হয় নি । ডাক্তার বলেছে, “এইখানেই বাস করে, একটু ৰামে ।’ আমি বলেছি, ‘আমি থামলে চলে কই ? ঠিক এমন সময়ে চাকা ভেঙে আমার রথ এই জানলাটার সামনে এসে থামল । এখানে দাড়িয়ে অনেক দিন পরে ঐ মহাকাশের দিকে তাকালুম । সেখানে দেখি মহাকালের রথযাত্রায় লক্ষ লক্ষ অগ্নিচক্র ঘুরতে ঘুরতে চলেছে ; না উড়ছে ধুলো, না উঠছে শব্দ, না পথের গায়ে একটুও চিহ্ন পড়ছে। ঐ রথের চলার সঙ্গে বাধা হয়ে বিশ্বের সমস্ত চলা অহরহ চলেছে । এক মুহুর্তে আমার যেন চটক ভেঙে গেল। মনে হল স্পষ্ট দেখতে পেলুম, আমাকে না হলেও চলে । কালের ঐ নি:শব্দ রথচক্র কারো অভাবে, কারো শৈথিল্যে, কোথাও এক তিল বা এক পল বেধে যাবে, এমন লক্ষণ তো দেখি নে। 'আমি-নইলে চলে-না’র দেশ থেকে ‘আমি-নইলে-চলে’র দেশে ধ" করে এসে পৌঁচেছি, কেবলমাত্র ঐ ডেস্কের থেকে এই জানলার ধারটুকুতে এসে । কিন্তু কথাটাকে এত সহজে মেনে নিতে পারব না । মুখে যদি বা মানি, মন মানে না। আমি থাকলেও যা আমি গেলেও তা, এইটেই যদি সত্য হবে তবে আমার অহংকার এক মুহুর্তের জন্তেও বিশ্বে কোথাও স্থান পেলে কী করে ? তার টিকে থাকবার জোর কিসের উপরে ? দেশকাল জুড়ে আয়োজনের তো অস্ত নেই, তবু এত ঐশ্বর্যের মধ্যে আমাকে কেউ বরখাস্ত করতে পারলে না । আমাকে না হলে 》及●