পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালান্তর কোথাও ঢাকা নেই। ঐ দেখো পীসূ-কনফারেন্সের সভাক্ষেত্রে তা লক্লক করছে। অপর পক্ষে একদা আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় উচ্ছ্বস্থলতার সময় ভীত পীড়িত প্রজা আপন কবিদের মুখ দিয়ে শক্তিরই স্তবগান করিয়েছে। কবিকঙ্কণচণ্ডী, অন্নদামঙ্গল, মনসার ভাসান, প্রকৃতপক্ষে অধর্মেরই জয়গান। সেই কাব্যে অন্যায়কারিণী ছলনাময়ী নিষ্ঠুর শক্তির হাতে শিব পরাভূত। অথচ অদ্ভুত ব্যাপার এই যে, এই পরাভবগানকেই মঙ্গলগান নাম দেওয়া হল । আজকের দিনেও দেখি আমাদের দেশে সেই হাওয়া উঠেছে। আমরা ধর্মের নাম করেই এক দল লোক বলছি, ধর্মভীরুতাও ভীরুতা । বলছি, যারা বীর, অন্তায় তাদের পক্ষে অন্যায় নয়। তাই দেখি সাংসারিকতায় যারা কৃতাৰ্থ এবং সাংসারিকতায় যারা অকৃতাৰ্থ, ছুইয়েরই মুর এক জায়গায় এসে মেলে। ধর্মকে উভয়েই বাধা বলে জানে, সেই বাধা গায়ের জোরে অতিক্রম করতে চায় । কিন্তু গায়ের জোরই পৃথিবীতে সব চেয়ে বড়ো জোর নয়। এই বড়ো দুঃসময়ে কামনা করি, শক্তির বীভৎসতাকে কিছুতে আমরা ভয়ও করব না, ভক্তিও করব না ; তাকে উপেক্ষ করব, অবজ্ঞা করব । সেই মনুষ্যত্বের অভিমান আমাদের হোক, যে অভিযানে মানুষ এই স্থল বস্তুজগতের প্রবল প্রকাগুতার মাঝখানে দাড়িয়ে মাথা তুলে বলতে পারে, আমার সম্পদ এখানে নয় ; বলতে পারে, শৃঙ্খলে আমি বন্দী হই নে, আঘাতে আমি আহত হই নে, মৃত্যুতে আমি মরি নে ? বলতে পারে, যেনাহং নামৃতঃ তাম্ কিমহং তেন কুর্ষাম্। আমাদের পিতামহেরা বলে গেছেন ; এতদস্মৃতমভয়ং শাস্ত উপালীত । যিনি অমৃত, যিনি অভয় তাকে উপাসনা করে শাস্ত হও । তাদের উপদেশকে আমরা মাথায়ু লই, এবং মৃত্যু ও সকল ভয়ের অতীত যে শাস্তি সেই শাস্তিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করি। >\be