পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাতায়নিকের পত্র २ কারো উঠোন চষে দেওয়া আমাদের ভাষায় চূড়ান্ত শাস্তি বলে গণ্য। কেননা উঠোনে মানুষ সেই বৃহৎ সম্পদকে আপন করেছে যেটাকে বলে ফাক । বাহিরে এই ফাক স্থলভ নয়, কিন্তু সেই বাহিরের জিনিসকে ভিতরের করে, আপনার করে না তুললে তাকে পেয়েও না পাওয়া হয় । উঠোনে ফাকটাকে মানুষ নিজের ঘরের জিনিস করে তোলে ; ঐখানে স্বর্যের আলো তার ঘরের আপনার আলো হয়ে দেখা দেয়, ঐখানে তার ঘরের ছেলে আকাশের চাদকে হাততালি দিয়ে ডাকে । কাজেই উঠোনকেও যদি বেকার না রেখে তাকে ফসলের খেত বানিয়ে তোলা যায় তা হলে যে বিশ্ব মানুষের আপন ঘরের বিশ্ব, তারই বাসা C5なも (7S和1 豪習| সত্যকার ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে প্রভেদ এই যে, ধনী এই ফাকটাকে বড়ো করে রাখতে পারে । যে-সমস্ত জিনিসপত্র দিয়ে ধনী আপনার ঘর বোঝাষ্ট করে তার দাম খুব বেশি, কিন্তু যে ফাকটী দিয়ে তার আঙিনা হয় প্রশস্ত, তার বাগান হয় বিস্তীর্ণ সেইটেই হচ্ছে সব চেয়ে দামি । সদাগরের দোকানঘর জিনিসপত্রে ঠাসা ; সেখানে ফণক রাখবার শক্তি তার নেই। দোকানে সদাগর রূপণ, সেখানে লক্ষপতি হয়েও সে দরিদ্র । কিন্তু সেই সদাগরের বাসের বাড়িতে ঘরগুলো লম্বায় চওড়ায় উচুতে সকল দিকেই প্রয়োজনকে ধিক্কার ক’রে ফাকটাকেই বেশি আদর দিয়েছে, আর বাগানের তো কথাই নেই। এইখানেই সদাগর ধনী । শুধু কেবল জায়গার ফাক নয়, সময়ের ফাকাও বহুমূল্য। ধনী তার অনেক টাকা দিয়ে এই অবকাশ কিনতে পায় । তার ঐশ্বর্যের প্রধান লক্ষণ এই যে, লম্বা লম্বা সময় সে ফেলে রাখতে পারে। হঠাৎ কেউ তার সময়ের উঠোন চবতে পারে না । > 3 >