পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাতায়নিকের পত্র হল। আজকের দিনে ভারতবাসীর আর ছুটি নেই ; তার মনের অস্তরতম ছুটির উৎসটি শুকিয়ে শুকিয়ে মরে গেল, বেদনায় তার সমস্ত চৈতষ্ঠকে আচ্ছন্ন করে দিয়েছে । তাই আজ যখনই এই বাতায়নে এসে বসেছি আমনি দেখি, আমাদের আঙিন থেকে উঠছে দুর্বলের কান্না ; সেই দুর্বঙ্গের কাল্লায় আমাদের উত্তর থেকে দক্ষিণ পূর্ব থেকে পশ্চিম, সমস্ত অবকাশ একেবারে পরিপূর্ণ। আজকের দিনে দুর্বল যত ভয়ংকর দুর্বল, জগতের ইতিহাসে এমন আর কোনো দিনই ছিল না। বিজ্ঞানের কৃপায় বাহুবল আজ নিদারুণ দুর্জয়। পালোয়ান আজ জল স্থল আকাশ সর্বত্রই সিংহনাদে তাল ঠুকে বেড়াচ্ছে। আকাশ এক দিন মামুষের হিংসাকে আপন সীমানায় ঢুকতে দেয় নি। মামুষের কুরতা আজ সেই শূন্তকেও অধিকার করেছে। সমুদ্রের তলা থেকে আরম্ভ করে বায়ুমণ্ডলের প্রাস্ত পর্যন্ত সব জায়গাতেই বিদীর্ণ হৃদয়ের রক্ত বয়ে চলল । এমন অবস্থায়, যখন সবলের সঙ্গে দুর্বলের বৈষম্য এত অত্যন্ত বেশি তখনে যদি দেখা যায়, এত বড়ো বলবানেরও ভীরুতা ঘুচল না, তা হলে সেই ভীরুতার কারণটা ভালো করে ভেবে দেখতে হবে । ভেবে দেখা দরকার এইজন্তে যে, যুরোপে আজকের যে শাস্তিস্থাপনের চেষ্টা হচ্ছে সেই শাস্তি টেকসই হবে কি না সেটা বিচার করতে হলে এই সমস্ত বলিষ্ঠদের মনস্তত্ত্ব বুঝে দেখা চাই । যুদ্ধ যখন প্রবল বেগে চলছিল, যখন হারের আশঙ্কা জিতের আশার চেয়ে কম ছিল না, তখন সেই দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় সন্ধির শর্তভঙ্গ, অস্ত্রাদিপ্রয়োগে বিধিবিরুদ্ধতা, নিরস্ত্র শক্রদের প্রতি বায়ুরথ থেকে অস্ত্রবর্ষণ প্রভৃতি কাওকে এ পক্ষ ‘ক্রাইম’ অর্থাৎ অপরাধ বলে অভিযোগ করেছিলেন। মানুষ ক্রাইম কখন করে ? যখন সে ধর্মের গরজের চেয়ে రిO