পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাতায়নিকের পত্র এ তো গেল অনাবৃষ্টির কথা । এ ছাড়া মাঝে মাঝে কাদাবৃষ্টি রক্তবৃষ্টি প্রভৃতি নানা উৎপাতের কথা শোনা যায় । আকাশের বিশুদ্ধতা যখন চলে যায়, বাতাস যখন পৃথিবীর নানা আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে থাকে, তখনই এইসব কাণ্ড ঘটে । তখন আকাশের বাণীও নির্মল হয়ে পৃথিবীকে পবিত্র করে না । পৃথিবীরই পাপ পৃথিবীতে ফিরে আসতে থাকে । আজকের দিনে সেই দুর্যোগ ঘটেছে। পৃথিবীর পাপের ধূলিতে আকাশের বর্ষণ ও আবিল হয়ে নামছে। নির্মল ধারায় পুণ্যস্নানের জন্তে অনেক দিনের যে প্রতীক্ষা তাও আজি বারে বারে ব্যর্থ হল । মনের মধ্যে কাদা লাগছে এবং রক্তের চিহ্ন এসে পড়ছে ; বার বার কত আর भूछ्व । রক্তকলঙ্কিত পৃথিবী থেকে ঐ-যে আজ একটা শাস্থির দরবার উঠেছে, উর্ধ্ব-আকাশের নির্মল নি:শব্দত। তার বেসুরকে ধুয়ে দিতে পারছে না । শাস্তি ? শাস্তির দরবার সত্য সত্যই কে করতে পারে ? ত্যাগের জন্তে যে প্রস্থত। ভোগেরই জন্তে, লাভেরই জন্তে যাদের দশ আঙল অজগর সাপের দশটা লেজের মতো কিলবিল করছে তার শাস্তি চায় বটে, কিন্তু সে ফাকি দিয়ে, দাম দিয়ে নয় । যে শক্তিতে পৃথিবীর সমস্ত ক্ষীরসর বাটি চেটে নিরাপদে খাওয়া যেতে পারে সেই শাস্তি । দুর্ভাগ্যক্রমে পৃথিবীর এই ক্ষীরসরের বড়ে বড়ো ভাওগুলো প্রায় আছে দুর্বলদের জিন্মায়। এইজন্ত যে ত্যাগশীলতায় সত্যকার শাস্তি সেই ত্যাগের ইচ্ছা প্রবলদের মনে কিছুতেই সহজ হতে পারছে না । যেখানে শক্ত পাহারা সেখানে লোভ দমন করতে বেশি চেষ্টা করতে হয় না । সেখানে মামুব সংযত হয় এবং নিজেকে খুব ভালো ছেলে বলেই মনে করে। কিন্তু আলগা পাহারা যেখানে সেখানে ভয়ও থাকে না, লজ্জাও t:)