পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাতায়নিকের পত্র বিচার নিয়ে নিজের সঙ্গে নিজের যে-একটা নিরস্তর লড়াই চলছে অমুকঅমুক চৌহদির মধ্যে সেটাকে যথেষ্ট পরিমাণ ঢিল দেওয়া যেতে পারে। ভারতবর্ষে আমরাও এ কাজ করেছি ; শূদ্রকে ব্রাহ্মণ এত দুর্বল করেছিল যে তার সম্বন্ধে ব্রাহ্মণের না ছিল লজ্জা, না ছিল ভয় । আমাদের সংহিতাগুলি আলোচনা করলে এ কথা ধরা পড়বে। দেশ জুড়ে আজ তার যে ফল ফলেছে তা বোঝবার শক্তি পর্যন্ত চলে গেছে, ছুৰ্গতি এত গভীর । যে দুর্বল, সবলের পক্ষে সে তেমনি ভয়ংকর, হাতির পক্ষে যেমন চোরাবালি । এই বালি বাধা দিতে পারে না ব’লেই সম্মুখের দিকে অগ্রসর করে না, কেবলই নীচের দিকে টেনে নেয় । শক্তির আয়তন যত প্রকাও, তার ভার যতই বেশি, তার প্রতি আশক্তির নীচের দিকের টান ততই ভয়ংকর। যে মাটি বাধা দেয় না তাকে পদাঘাত যত জোরেই করবে, পদের পক্ষে ততই বিপদ ঘটবে। যে জায়গায় হাওয়া হালকা সেই জায়গাই হচ্ছে ঝড়ের কেন্দ্র । এই জন্তে যুরোপের বড়ো বড়ো ঝড়ের আসল জন্মস্থান এশিয়া, আফ্রিকা । ঐখানে বাধা কম, ঐখানে স্তায়পরতার যুরোপীয় আদর্শ খাড়া রাখবার প্রেরণ দুর্বল। এবং আশ্চর্য এই যে, সেই দ্যায়পরতার আদর্শ যে নেমে চলেছে, বলদৰ্পে মামুষ সেটা বুঝতেই পারে না। এইটেই হচ্ছে দুৰ্গতির পরাকাষ্ঠ । এই অসাড়ত, এই অন্ধতা এত দূর পর্যন্ত যায় যে, এক-এক সময়ে তার কাও দেখে বড়ো দুঃখেও হালি আসে । যুরোপের মুড়িখানা থেকে পোলিটিকাল মদ খেয়ে মাতাল হয়েছে এমন একদল যুবক আমাদের দেশে আছে। তারা নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি করে। তাই দেখে অনেকবার এই কথাই ভেবেছি, মামুষের স্বদেশী পাপের তো অভাব নেই, এর উপরে যারা বিদেশী পাপের আমদানি করছে তারা f > 8 S