পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


་་་་་་་་། কালান্তর যিনি ছিলেন তার বিশেষ কোনো উপদ্রব ছিল না । খামক মেয়েদেবতা জোৰু করে এসে বায়না ধরলেন,'আমার পুজো চাই ।” অর্থাৎ যে জায়গায় আমার ধর্থল নেই, সে জায়গা আমি দখল করবই।’ তোমার দলিল কী ? গায়ের জোর । কী উপায়ে দখল করবে ? যে উপায়েই হোক । তার পরে যে-সকল উপায় দেখা গেল মানুষের সদবুদ্ধিতে তাকে সন্ধুপায় বলে না। কিন্তু পরিণামে এই-সকল উপায়েরই জয় হল । ছলনা অন্তায় এবং নিষ্ঠুরতা কেবল যে মন্দির দখল করল তা নয়, কবিদের দিয়ে মন্দিরা বাজিয়ে চামর দুলিয়ে আপন জয়গান গাইয়ে নিলে। লজ্জিত কবিরা কৈফিয়ত দেবার ছলে মাথা চুলকিয়ে বললেন, ‘কী করব, আমার উপর স্বপ্নে আদেশ হয়েছে।” এই স্বপ্ন এক দিন আমাদের সমস্ত দেশের উপর ভর করেছিল। সেদিনকার ইতিহাস স্পষ্ট নয় । ইতিহাসের যে-একটা আবছায়া দেখতে পাচ্ছি সেটা এই রকম— বাংলা সাহিত্য যখন তার অব্যক্ত কারণসমুদ্রের ভিতর থেকে প্রবালদ্বীপের মতো প্রথম মাথা তুলে দেখা দিলে তখন বৌদ্ধধর্ম জীর্ণ হয়ে, বিদীর্ণ হয়ে, টুকরো টুকরো ছয়ে নানা প্রকার বিকৃতিতে পরিণত হচ্ছে । স্বপ্নে যেমন এক থেকে আর হয়, তেমনি করেই বুদ্ধ তখন শিব হয়ে দাড়িয়েছিলেন । শিব ত্যাগী, শিৰ ভিক্ষু, শিব বেদবিরুদ্ধ, শিব সর্বসাধারণের । বৈদিক দক্ষের সঙ্গে এই শিবের বিরোধের কথ। কবিকঙ্কণ এবং অন্নদামঙ্গলের গোড়াতেই প্রকাশিত আছে। শিবও দেখি বুদ্ধের মতো নির্বাণমুক্তির পক্ষে ; প্রলয়েই তার আনন্দ । কিন্তু এই শাস্তির দেবতা, ত্যাগের দেবতা টিকল না। যুরোপেও আধুনিক শক্তিপূজক বলছেন, যিশুর মতো অমন গরিবের দেবতা, নিরীহ দেবতা, অমল নেহাত ফিকে রক্তের দেবতা নিয়ে আমাদের চলবে না । আমাদের এমন দেবতা চাই জোর করে যে কেড়ে নিতে পারে ; যেমন ○8や