পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাতায়নিকের পত্র ক’রে হোক যে নিজেকে জাহির করতে গিয়ে না মানে বাধা, না পায় ব্যথা, না করে লজ্জা । কিন্তু দুরোপে এই-যে বুলি উঠেছে সে কাদের পানসভার বুলি ? যারা জিতেছে, যারা লুটেছে, পৃথিবীটাকে টুকরো টুকরো ক’রে যারা তাদের মদের চাট বানিয়ে থাচ্ছে। আমাদের দেশের মঙ্গলগানের আসরেও ঐ বুলিই উঠেছিল। কিন্তু এ বুলি কোনখান থেকে উঠল ? যাদের অল্প নেই, বস্ত্র নেই, আশ্রয় নেই, সন্মান নেই, সেই হতভাগাদের স্বপ্নের থেকে । তার স্বপ্ন দেখল । কখন ? যখন— নারায়ণ, পরাশর, এড়াইল দামোদর, উপনীত কুচট্যানগরে । তৈল বিন কৈলু স্নান, করিলু উদক পান, শিশু কাদে ওদনের তরে । আশ্রম পুখরি-আড়া, নৈবেদ্য শালুক পোড়া, পূজা কৈছু কুমুদ প্রস্থনে । ক্ষুধাভয় পরিশ্রমে, নিদ্রা যাই সেই ধামে, চওঁী দেখা দিলেন স্বপনে ॥ সেদিনকার শক্তির স্বপ্ন স্বপ্নমাত্র, সে স্বপ্নের মূল ক্ষুধা ভয় পরিশ্রমের মধ্যে । শোলা গেছে, ইতিহাসের গান অমিত্রাক্ষরে হয় না, এর চরণে চরণে মিল। সেই পাচ শো বছর পূর্বের এক চরণের সঙ্গে আজ-পাচ শো বছর পরের এক চরণের চমৎকার মিল শোনা যাচ্ছে না কি ? যুরোপের শক্তিপূজক আজ বুক ফুলিয়ে বড়ো সমারোহেই শক্তির পুজো করছেন— মদে তার দুই চক্ষু জবাফুলের মতে টকটক্‌ করছে, খাড়া শাণিত, ৰলির পশু খুঁপে বাধা । তারা কেউ কেউ বলছেন জামরা যিশুকে মানি নে" ; আবার কেউ কেউ ভারতচন্দ্রের মতো গোজামিলন দিয়ে ৰলছেন, ➢ ፀዊ